পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মালদহের কালিয়াচকের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।  এবার এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। আগেই সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, সিবিআই অথবা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। এর পরেই সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।  একইসঙ্গে জেলা পুলিশের উপর সরাসরি চাপ তৈরি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এবং পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই বৈঠকেই মালদহের ঘটনার প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সূত্রের খবর, বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহকে কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

জ্ঞানেশ কুমারের সরাসরি প্রশ্ন ছিল—ঘটনার শুরুতেই কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? দু’দিন ধরে সিইও দপ্তরের সামনে অশান্তি চলল কীভাবে? এত বড় জমায়েত হল কীভাবে? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে দিল্লিতে তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেখানেই তিনি বৈঠকে অংশ নেন। কমিশন সূত্রে খবর, তাঁর সঙ্গে আলাদাভাবেও আলোচনা হতে পারে।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, মালদহের মানিকচক এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। পুলিশ সুপার অনুপম সিংহকে সরাসরি প্রশ্ন করেন জ্ঞানেশ কুমার, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে কেন যাননি।

উত্তরে এসপি জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেখানে গিয়েছিলেন। এই উত্তরে অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিশনের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়, তা হলে তাঁকেই এডিজি পদে উন্নীত করা হোক।

মালদহের জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে কমিশন। অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি এবং তিনি সরকারি বাসভবনেও ছিলেন না। কোথায় ছিলেন—সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকেও কড়া বার্তা দেয় কমিশন। এত অভিজ্ঞ এক আধিকারিকের কাছ থেকে এমন পরিস্থিতি প্রত্যাশিত নয় বলেই মন্তব্য করা হয়েছে।

মালদহের ঘটনাকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরই প্রশাসনিক স্তরে নড়াচড়া শুরু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) অজয় মুকুন্দ রানাডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দসহ বিভিন্ন জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশ সুপারদের নিয়ে তড়িঘড়ি বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।


ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে বুধবার মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুরসহ একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিযোগ ওঠে, এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাতজন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতরে রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনেন। এরপরই বৃহস্পতিবার সকালে মামলাটি শুনতে চায় দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।

শুনানিতে এসআইআর-এর সঙ্গে যুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না-পারায় রাজ্য প্রশাসনের সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত। মালদহের ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ-র হাতে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এসআইআর-এর কাজে যুক্ত বিচারকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে তাঁদের বাসভবন ও পরিবারের নিরাপত্তাও পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মালদহসহ রাজ্যের আরও কয়েকটি জায়গায় সংঘাতের খবর সামনে আসতেই বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে এবং পরিস্থিতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে।