পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ফর্ম ৬ ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের সামনে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের জেরে সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে বিপুল সংখ্যায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ইস্যুতে গত মঙ্গলবার থেকেই সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। বৃহস্পতিবারও সেই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্য—বিশেষ করে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগ তুলেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক  বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সোমবার তিনি সিইও দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানান যে বিজেপি নেতারা বস্তাভর্তি ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনের দফতরে ঢুকেছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই সিইও দফতরের সামনে একাধিকবার বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।

তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, এ ধরনের অসামাজিক আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।সোমবারের ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেও দফতরের সামনে জড়ো হন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা এবং অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা কিছুটা দূরে সরে যান। ওই রাতের ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করবে না।

বুধবার সকালেও কয়েক দফায় উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। মঙ্গল ও বুধবারের ধারাবাহিকতার পর বৃহস্পতিবারও ফর্ম-৬ সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিইও দপ্তরের সামনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর জেরে সেখানে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূলপন্থী বিএলও সংগঠনের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, সিইও দপ্তরের সামনে ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও সেখানে লাগাতার বিক্ষোভ চালানো হচ্ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়েছে।