পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : ১৩ মার্চ, নয়াদিল্লি: সোমবার মধ্যপ্রদেশ সরকার সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত বিবেক অগ্নিহোত্রীর চলচ্চিত্র 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস'-কে রাজ্যে বিনোদন কর প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে গুজরাত ও হরিয়ানাও এই সিনেমাটিকে সেই রাজ্যগুলিতে ট্যাক্স ফ্রি ঘোষণা দিয়েছে৷ একটি বলিউডি সিনেমাকে এভাবে শুল্ক ছাড় দেওয়া হচ্ছে কেন, এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল দেখা গিয়েছে৷ একাংশ মনে করছে, ১৯৯০-এর দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের দুর্দশা ও মাইগ্রেশন তুলে ধরেই ডানপন্থী দর্শকদের প্রশংসা কুড়োচ্ছে অগ্নিহোত্রীর ছবিটি৷ এর আগে বিবেক অগ্নিহোত্রী 'বুদ্ধ ইন আ ট্রাফিক জ্যাম', 'তাসখন্দ ফাইলস' ইত্যাদি সিনেমা বানিয়েছিলেন৷ সেগুলিতেও বিজেপি, আরএসএসের মতাদর্শ প্রচার করা হয়েছিল নরমভাবে, মত সিনেমা বোদ্ধাদের৷ কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিয়ে বানানো সিনেমাতে অনুপম খের, মিঠুন চক্রবর্তীর মতো অভিনেতার অভিনয় করেছেন৷ ইতিমধ্যে 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস'-এর পুরো টিম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখাও করেছে৷ মোদি সিনেমাটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন৷ একটি বলিউডি চলচ্চিত্র নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী এত উচ্ছ্বসিত কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে৷
আরও পড়ুন:
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান তার টুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন,"#দ্যকাশ্মীরফাইলস মুভিটি ৯০-এর দশকে কাশ্মীরি হিন্দুদের বেদনা, কষ্ট, সংগ্রাম এবং ট্রমাগুলির হৃদয় বিদারক বর্ণনা। এটি সব মানুষের দেখা দরকার৷ তাই আমরা মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে এটিকে করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷'' এদিকে, গুজরাত সরকার রবিবার রাজ্যে 'দ্য কাশ্মীর ফাইল'-কে করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
১১ মার্চ মুক্তি পাওয়া ছবিটিকে করমুক্ত করার সিদ্ধান্তটি নেন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল৷ এদিকে, বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা ছবিটির প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন৷ এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি ছবিটি দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। পরে, রানাওয়াত বলিউডকে আঘাত করেন এবং চলচ্চিত্রটির প্রতি কোনও সমর্থন না দেখানোর জন্য তাদের সমালোচনা করে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন। কঙ্গনা বলেছেন, অনুগ্রহ করে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পিন-ড্রপ নীরবতা লক্ষ্য করুন৷ #দ্যকাশ্মীরফাইলস শুধুমাত্র বিষয়বস্তুর দিক থেকেই নয়, এমনকি এর ব্যবসাও অনুকরণীয়৷ এটি বছরের সবচেয়ে সফল লাভজনক চলচ্চিত্র হবে৷ এটি দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনছে৷ দেশ বদলেগা তো ফিল্মে ভি বদলিঙ্গি। জয় হিন্দ!