পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র মহা সমাবেশ থেকে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনসহ একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ‘ভোটচুরি’ ও ইভিএম কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মূল অভিযুক্ত হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কেবল ইস্তফাই দিতে হবে না, তাঁকে জেলেও যেতে হবে।

রামলীলা ময়দানের সুবিশাল মঞ্চ থেকে বিরোধী ঐক্যের সুর চড়িয়ে রাহুল বলেন, "আমরা অহিংসাবাদী। নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহ আমাদের শত্রু নন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আপনি যে-ই হন না কেন, সংবিধানের চেয়ে বড় নন।

"

রাহুল বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে শাসক দল এনডিএ এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তালিকার বাইরে রেখে এবং ইভিএমে কারচুপি করে বিজেপি জয় হাসিল করেছে। ফলে নরেন্দ্র মোদীর পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ ও অনৈতিক বলে তিনি দাবি করেন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি নিশানা করেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনেও একই কৌশলে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে।

হুঙ্কার ছেড়ে কংগ্রেস নেতা বলেন, "আমি আজ বলে যাচ্ছি, জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে। বেচারা রাতে ঘুমোতে পারছেন না। ভোটচুরি কোনো সাধারণ চুরি নয়; এটি ভারতের প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর চুরি করার শামিল। আর একেই বলে প্রকৃত রাষ্ট্রদ্রোহিতা।"

রাহুলের বক্তব্য, "জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, আর অমিত শাহও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। তাই এই সংবিধানবিরোধী অপরাধের জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যেতেই হবে।"