পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে এলপিজি সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে রান্নার গ্যাসের আমদানিতে টান পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে সিলিন্ডারের সমবণ্টন নিশ্চিত করতে এক অভিনব পরিকল্পনার কথা ভাবছে দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি। জানা গিয়েছে, এবার থেকে গৃহস্থের ব্যবহৃত ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ কমিয়ে ১০ কেজি করার চিন্তাভাবনা চলছে।
 
ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে।

ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বর্তমানে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ভারতমুখী একাধিক এলপিজি কেরিয়ার বা ভেসেল বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ক্লিয়ারেন্সের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। যদিও গত সপ্তাহে কয়েকটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে, তবে নতুন করে কোনো কার্গো আসার নিশ্চয়তা না থাকায় ভবিষ্যতে সংকটের আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
 
'দ্য ইকোনমিক টাইমস'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানের সীমিত স্টক যাতে সবার কাছে পৌঁছানো যায়, তার জন্যই রিফিলের পরিমাণ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একটি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডার সাধারণত একটি পরিবারে ৩৫ থেকে ৪০ দিন চলে।
একই সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজির বদলে ১০ কেজি গ্যাস রিফিল করা হবে। এতে একটি সিলিন্ডার গড়ে এক মাস চলবে এবং অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
 
আধিকারিকদের মতে, যদি সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ কমানো হয়, তবে সেই অনুপাতে সিলিন্ডারের দামও কমিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ গ্রাহককে শুধুমাত্র ১০ কেজি গ্যাসের জন্যই মূল্য দিতে হবে। আপাতত দেশের মজুত ভাণ্ডার দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হলেও, আন্তর্জাতিক স্তরে সমাধান না মিললে খুব শীঘ্রই গ্রাহকদের ১০ কেজির সিলিন্ডার নিতে হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।