সেখ জামাল, মেদিনীপুর: ঝাড়গ্রাম জুড়ে হাতির হামলা গত এক মাস ধরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৩ দিনে ৭ জনের বহু প্রাণহানী হয়। চাপে পড়ে তৎপর হয় বন দফতর। সেখান থেকে বন দফতরের তাড়া খেয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রবেশ করে ৮০টি হাতি। গ্রামে ঢুকেই দু’টি মাটির বাড়ি ভেঙে তছনছ করে দেয়।
মাড়িয়ে নষ্ট করে দেয় সদ্য রোওয়া ধানের জমি। ‘খুনি’ হাতিদের আক্রোশ থেকে মানুষকে বাঁচাতে চিলগোড়া এলাকায় সকাল থেকে পাহারায় ছিল বনকর্মীরা।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে বুধবার গভীর রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরে দু’টি ভাগে ভাগ হয়ে প্রবেশ করেছে হাতির দল। যার একটিতে আছে ৬০টি এবং অন্যটিতে আছে ১৮টি। পাশাপাশি রয়েছে বেশ কয়েকটি দল-বিচ্ছিন্ন হাতি।

গত এক মাসে ঝাড়গ্রাম জেলাতে প্রায় ৮ জনকে প্রাণে মারে এই হাতির পাল। এবার সেই পাল-ই প্রবেশ করে মেদিনীপুর সদর ব্লকের শির্ষীতে। বৃহস্পতিবার ভোরে শির্ষী এলাকায় বড় দু’টি মাটির বাড়ি ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। কোনওক্রমে পালিয়ে প্রাণরক্ষা করে বাড়ির লোকজন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক দীনেশ মাহাতো বলেন, ‘বাড়ির ভেতর থেকে দেখতে পেয়েছিলাম বাড়ির সামনের অংশ ভাঙছে হাতি।

বাড়ির সমস্ত কিছু ভেঙে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে চোখের সামনে। অন্য লোকেদেরও ক্ষতি করেছে। কোনওভাবে পালিয়ে রক্ষা হয়।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশাল হাতির পাল শির্ষী,চিলগোড়া-সহ এলাকার বহু সদ্য রোওয়া ধানের জমি মাড়িয়ে নষ্ট করে দেয়। চরম ক্ষতি দেখে হতাশা প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষকরা। অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের মতো যাতে জঙ্গলের রাস্তায় মানুষকে হাতি মেরে না ফেলতে পারে তার জন্য আতঙ্কে আগে থেকেই চিলগোড়ার রাস্তাতে পাহারা বসিয়ে দিয়েছে বন দফতর। বৃহস্পতিবার বন আধিকারিক এবং বিভিন্ন বনকর্মীরা সকাল থেকে ওই রাস্তায় যাওয়া লোকজনদের অন্য পথে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। ঘটনায় আতঙ্কিত মেদিনীপুর সদরের জঙ্গলমহলের লোকজন-সহ বন দফতরের কর্মীরা।