পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জাত-সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করে দেশজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল বিহারের নীতীশ কুমার সরকার। এরপর আরও একাধিক রাজ্য জাত-সমীক্ষা করার ইঙ্গিত দিয়েছিল। আর এবার জাত-সমীক্ষা করার ব্যাপারে একেবারে দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিল অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার।

রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী সি শ্রীনিবাস ভেনুগোপাল কৃষ্ণ জানান, সরকার ৯ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে জাতিশুমারি শুরু করবে। জাত-সমীক্ষা অন্ধ্রের জগনমোহন রেড্ডি সরকারের একটি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করার জন্য জাতিশুমারি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে কোনও জাতিশুমারি হয়নি। শুধুমাত্র জনগণনা বা আদমশুমারি হয়েছে। আর এই জাত-সমীক্ষার ব্যাপারে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন বর্ণের প্রতিনিধিদের মতামত সংগ্রহ করছে রাজ্য সরকার। রাজ্য একটি সুষ্ঠু এবং ব্যাপকভাবে বর্ণ শুমারি পরিচালনা করবে বলে আস্থা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অন্ধ্রপ্রদেশের জাত-সমীক্ষা দেশের কাছে একটি ‘রোল মডেল’ হয়ে থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস জগন মোহন রেড্ডি সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর আমাদের এই জাত-সমীক্ষার কথা শুনে বিরোধীদের মধ্যে ভয়ে কাঁপুনি শুরু হয়ে গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, প্রথমে শুধুমাত্র রাজ্যের ১৩৯টি অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যেই জাত-সমীক্ষা সীমাবদ্ধ রাখার কথা ভাবা হয়েছিল। পরে অবশ্য আরও বৃহত্তর পরিধিতে রাজ্যের সমস্ত জাতি-বর্ণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিহারের জাতি-সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৩৬.১ শতাংশ অত্যন্ত অনগ্রসর শ্রেণির (ইবিসি)।

আর ওবিসি ২৭.১২ শতাংশ। মোট জনসংখ্যার ১৯.৬৫ শতাংশ এসসি ও ১.৬৮ শতাংশ এসটি। ওবিসির মধ্যে যাদব ১৪.২৬ শতাংশ। তার মধ্যে কুশওয়াহ এবং কুর্মি যথাক্রমে ৪.২৭ শতাংশ ও ২.৮৭ শতাংশ। বিহার সরকারের এই জাত-সমীক্ষাকে ‘মাস্টার স্ট্রোক’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যা নিয়ে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পর্যন্ত বলতে হয়েছে, বিজেপি জাত-সমীক্ষার বিরোধী নয়।