পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: ফের চমক প্রজ্ঞানের। চাঁদের মাটিতে সে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। চাঁদমামার তাপমাত্রার হেরফের, সালফারের উপস্থিতি জানতে পারছে পৃথিবীর মানুষ। কিন্তু তাতে কি চোখের ক্ষুধা মিটছে আমজনতার? তারা দেখতে চায় ঝকঝকে ছবি। এবার সেই চাহিদাই পূরণ করল রোভার প্রজ্ঞান। যে ল্যান্ডার তাকে বয়ে নিয়ে গিয়ে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ছেড়ে দিয়েছে, সেই বিক্রমের ছবি তুলেছে সে। বুধবার সকাল ৭টা বেজে ৩৫ মিনিটে রোভার প্রজ্ঞান তার নেভিগেশন ক্যামেরায় বিক্রমের ঝকঝকে ছবিটি তুলেছে।

যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামকরণ করা শিবশক্তি পয়েন্টে দিব্যি পা মেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম। ক্যামেরার লেন্সে খুব কাছ থেকে ধরা পড়েছে বিক্রমের পেলোডগুলি। সেই ছবি ইতিমধ্যেই নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্ল্যাটফর্মগুলিতে শেয়ার করেছে ইসরো, যা ইতিমধ্যেই ভাইরাল। একে বলা হচ্ছে ‘ইমেজ অফ দ্য মিশন’।

https://twitter.com/isro/status/1696792992718442558?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1696792992718442558%7Ctwgr%5E411c78cb6bce0e7e431378cdf997244570bd711c%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Findianexpress.com%2Farticle%2Ftechnology%2Fscience%2Fisro-shares-chandrayaan-3-lander-vikram-image-8916059%2F

ছয় চাকা বিশিষ্ট রোভার ইতিমধ্যেই চাঁদের একাধিক রহস্য উদঘাটন করে ফেলেছে। মঙ্গলবারই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সালফারের সন্ধান পেয়েছে রোভার প্রজ্ঞান। ইসরো জানিয়েছে, সালফারের পাশাপাশি অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালশিয়াম, লোহা, ক্রোমিয়াম, টাইটেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সিলিকন এমনকি অক্সিজেনের অস্তিত্বও মিলেছে এই দক্ষিণ মেরুতে।

রোভার প্রজ্ঞান হাইড্রোজেনের সন্ধানও চালাচ্ছে বলে এদিন জানিয়েছে ইসরো। প্রসঙ্গত, ২৩ আগস্ট, বুধবার চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে চন্দ্রযান-৩। আমেরিকা, রাশিয়া, চিনের পর ভারতই সেই দেশ যার কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদ জয় করেছে। শুধু তাই নয়, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর অগম্য স্থানে ল্যান্ড করেছে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। রোভার প্রজ্ঞান তার ছটি পা নিয়ে হেঁটে হেঁটে তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছে ল্যান্ডারের কাছে। ল্যান্ডার বিক্রম পাঠাচ্ছে ইসরোকে। রোভার ‘মুনওয়াক’ শুরু করেছে চন্দ্রপৃষ্ঠে। সংগ্রহ করছে আবহাওয়া, মাটি সংক্রান্ত নানা তথ্য।
১৪ দিন ধরে চলবে এই চন্দ্র অভিযান। তারপর এক দিন সম্পন্ন হবে চাঁদে। তখন সূর্যের আলো পাবে না চাঁদের এই মেরু। ডুবে যাবে অন্ধকারে। এমনিতেই এখন সেখানে মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও কম তাপমাত্রা। সূর্যের আলো না থাকলে সেই তাপমাত্রা আরও নিচে নেমে যাবে। এদিকে ল্যান্ডার ও রোভার কাজ করছে সৌরশক্তির সাহায্যে। ফলে দুই সপ্তাহ পর চন্দ্রযানের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তার আগেই চলবে নিত্যনতুন আবিষ্কার।