বিশেষ প্রতিবেদন: চিনের গুয়াংচু শহরে অবস্থিত ‘হুয়াইশেং’ মসজিদ। ১৩৯০ বছরের পুরনো এই মসজিদটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদগুলির একটি। পুরাতন পাণ্ডুলিপি অনুসারে নবী হজরত মুহাম্মদ সা. এর চাচা সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা.) ৬৫০ সালে এক মুসলিম মিশনের অংশ হিসেবে চিনে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম চিনে অনুমতি নিয়ে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তখন ছিল খলিফায়ে রাশেদীনের শাসনকাল এবং খলিফা ছিলেন হজরত উসমান গনী (রা)।
আরও পড়ুন:
সেইসময় চিনে চলছিল তাং রাজবংশের (৬১৮-৯০৭) রাজত্ব।
হুয়াইশেং নামের মসজিদটি গুয়াংজো শহরের প্রধান মসজিদ। হুয়াইশেং শব্দটির অর্থ হল ‘জ্ঞানী লোককে স্মরণ’। নবী সা.র স্মরণে এ মসজিদটির নামকরণ করা হয় ‘হুয়াইশেং’ মসজিদ। হুয়াইশেং মসজিদটি চিনের চারটি সুপরিচিত মসজিদের একটি। অন্য তিনটি মসজিদ হ- ইয়াংঝৌ ক্র্যান মসজিদ, কুয়ানঝৌ কিলিন মসজিদ ও হ্যাংঝৌ ফিনিক্স মসজিদ।আরও পড়ুন:
হুয়াইশেং মসজিদে রয়েছে একটি ইমাম হল, ওয়াংয়ু চিলেকুঠুরি, করিডোর, ইসলামি বইয়ের সংরক্ষণাগার ও পাথরে খোদিত লেখার প্যাভিলিয়ন।
এ ভবনগুলি নিয়ে গঠিত মসজিদের আয়তন ২,৯৬৬ বর্গমিটার। মসজিদটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অসাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হল এর ১১৮ ফুট উঁচু সরু মিনার। মিনারটিকে মসজিদের আলোক গম্বুজও বলা হয়। এটি এমন একটি স্থাপনা, যা দেখতে সিলিন্ডারের আকৃতির।আরও পড়ুন:
এতে পাথর ও চুন-সুরকির সুনিপুণ কাজ রয়েছে। বুরুজের ভেতরে রয়েছে সিঁড়িপথ।
এ রকম স্থাপত্যশৈলীর মিনার চিনে আর কোথাও নেই। এই আলোক বুরুজের কারণেই মসজিদটির অপর নাম ‘লাইট হাউজ বা বাতিঘর মসজিদ’। এক সময় এ আলোক বুরুজ বা গম্বুজটি দেখে ঝুজিয়াং নদীতে চলাচলকারী নৌকাগুলি দিকনির্দেশনা পেত।আরও পড়ুন:
হুয়াইশেং মসজিদ এখনও চালু আছে এবং গুয়াংঝৌর মুসলিমদের জনজীবনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। চিনে বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি মসজিদ রয়েছে। হুয়াইশেং মসজিদটি ১৩৫০ সালে সংস্কার ও পুননির্মাণ করা হয়। তারপর থেকে মসজিদটি একইরকম আছে।