২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ের বৃষ্টির জেরে ডুয়ার্সের নদীতে জলস্ফীতি, জলমগ্ন গয়েরকাটা

শুভজিৎ দেবনাথ,গয়েরকাটা: কথায় আছে নদীর পাড়ে বাস, চিন্তা বারোমাস।ঠিক যেনো তাই।ভোর রাতে ঘুম ভেঙে খাট থেকে ঘরের মেঝেতে পা দিতেই যেন পুকুরের সন্ধান পেলেন বানারহাটের সাঁকোয়াঝোড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের জ্যোতির্ময় কলোনির বাসিন্দা সন্তোষ ঠাকুর।বিদ্যুতের সুইচ টিপে আলো জ্বালতেই মুহূর্তের মধ্যে  জলে ভরে গেলো শোবার ঘর থেকে শুরু করে উঠোন, রাস্তা ঘাট,  গ্রামটাই যেনো হয়ে উঠলো নদী!না কোনো বাঁধ ভাঙা একনাগাড়ে মুষলধারে বৃষ্টি নয়,অথচ ভয়ংকর সেই জলস্রোত।কেউ কেউ বলছেন ভুটান পাহাড় ভারী বৃষ্টিপাত হবার কারণে সেই জল নেমে এসেছে। এ যেন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

পাহাড়ের বৃষ্টির জেরে ডুয়ার্সের নদীতে জলস্ফীতি, জলমগ্ন গয়েরকাটা

আরও পড়ুন: সুন্দরবনের নদী উপকূলবর্তী ২০০টি নদী বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিল সেচ দফতর

রাত থেকে ভুটান পাহাড়ে টানা বৃষ্টিতে ফুলে ফেঁপে ওঠে ডুয়ার্সের নদীগুলি, জলস্ফীতি ঘটে।ডুডুয়া, জলঢাকা,আংরাভাষা নদীতে এই জলস্ফীতির জেরে ক্ষতির সম্মুখীন হয় নদী পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ। আংরাভাষা নদীর জল বেড়ে ঢুকে পড়ে গ্রামে। বানারহাট ব্লকের গয়েরকাটা জ্যোতির্ময় কলোনি, কোঙ্গারনগর কলোনি, বিবেকানন্দ পল্লী জলমগ্ন হয়ে পড়ে  নদীর জল ঢুকে। প্রায় এক কোমর জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের। শোয়ার ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে জল, যার ফলে দিশেহারা গ্রামবাসীরা। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।

আরও পড়ুন: নদী পথে একুশের সভায় রওনা সুন্দরবনের তৃণমূল  কর্মী ও সমর্থকদের

পাহাড়ের বৃষ্টির জেরে ডুয়ার্সের নদীতে জলস্ফীতি, জলমগ্ন গয়েরকাটা

আরও পড়ুন: একটানা ভারী বর্ষণে বন্যা পাকিস্তানে, নিহত ২৮

সোমবার রাতের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশে কালো মেঘ থাকায় দুশ্চিন্তা দানা বাধছে।ধূপগুড়ি সহ ডুয়ার্সে বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। তবে ভুটান পাহাড়ে বৃষ্টি চলায় আশঙ্কা রয়েই গেছে।যার কারণে জল বাড়ছে সমস্ত নদী গুলিতে। গতকাল গভীর রাত থেকে জল ঢুকতে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামে। আংরাভাষা নদী ঘেঁষা বাড়িগুলি বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে গতকালের রাতের বৃষ্টির পরিমাণ খুব একটা বেশি ছিল না, তাদের অনুমান ভুটান পাহাড়ে অতিরিক্ত পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ায় সেই বৃষ্টির জল হাতি নালা হয়ে আংরাভাষা নদীতে এসে পড়েছে, যার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আংরাভাষা নদীতে খুব দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাহাড়ের বৃষ্টির জেরে ডুয়ার্সের নদীতে জলস্ফীতি, জলমগ্ন গয়েরকাটা

তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েতের এস সি এস টি, ওবিসি সেলের অঞ্চল সভাপতি সমর সরকার জানান,”  আংরাভাসা নদীর জলোচ্ছ্বাস এর কারনে মানুষ কে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরা দলের পক্ষ থেকে মানুষের পাশে দাড়াবার  চেষ্টা করছি। সেচ দপ্তর কে বাধ নির্মানের ব্যাপারে আগেও কয়েকবার জানিয়েছি, ফের এব্যাপারে জানাবো। ”

 

সকাল থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রয়েছেন বানারহাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সীমা চৌধুরী। তিনি এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী এক বছরের মধ্যে ওই এলাকায় নদীবাধ নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে ফের একবার ভুটান পাহাড়ে যদি মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় তবে পরিস্থিতি অনেকটা ভয়ানক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

ভোটার তালিকা ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা: চার জেলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে চার সিনিয়র আইপিএস

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পাহাড়ের বৃষ্টির জেরে ডুয়ার্সের নদীতে জলস্ফীতি, জলমগ্ন গয়েরকাটা

আপডেট : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার

শুভজিৎ দেবনাথ,গয়েরকাটা: কথায় আছে নদীর পাড়ে বাস, চিন্তা বারোমাস।ঠিক যেনো তাই।ভোর রাতে ঘুম ভেঙে খাট থেকে ঘরের মেঝেতে পা দিতেই যেন পুকুরের সন্ধান পেলেন বানারহাটের সাঁকোয়াঝোড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের জ্যোতির্ময় কলোনির বাসিন্দা সন্তোষ ঠাকুর।বিদ্যুতের সুইচ টিপে আলো জ্বালতেই মুহূর্তের মধ্যে  জলে ভরে গেলো শোবার ঘর থেকে শুরু করে উঠোন, রাস্তা ঘাট,  গ্রামটাই যেনো হয়ে উঠলো নদী!না কোনো বাঁধ ভাঙা একনাগাড়ে মুষলধারে বৃষ্টি নয়,অথচ ভয়ংকর সেই জলস্রোত।কেউ কেউ বলছেন ভুটান পাহাড় ভারী বৃষ্টিপাত হবার কারণে সেই জল নেমে এসেছে। এ যেন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

পাহাড়ের বৃষ্টির জেরে ডুয়ার্সের নদীতে জলস্ফীতি, জলমগ্ন গয়েরকাটা

আরও পড়ুন: সুন্দরবনের নদী উপকূলবর্তী ২০০টি নদী বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিল সেচ দফতর

রাত থেকে ভুটান পাহাড়ে টানা বৃষ্টিতে ফুলে ফেঁপে ওঠে ডুয়ার্সের নদীগুলি, জলস্ফীতি ঘটে।ডুডুয়া, জলঢাকা,আংরাভাষা নদীতে এই জলস্ফীতির জেরে ক্ষতির সম্মুখীন হয় নদী পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ। আংরাভাষা নদীর জল বেড়ে ঢুকে পড়ে গ্রামে। বানারহাট ব্লকের গয়েরকাটা জ্যোতির্ময় কলোনি, কোঙ্গারনগর কলোনি, বিবেকানন্দ পল্লী জলমগ্ন হয়ে পড়ে  নদীর জল ঢুকে। প্রায় এক কোমর জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের। শোয়ার ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে জল, যার ফলে দিশেহারা গ্রামবাসীরা। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।

আরও পড়ুন: নদী পথে একুশের সভায় রওনা সুন্দরবনের তৃণমূল  কর্মী ও সমর্থকদের

পাহাড়ের বৃষ্টির জেরে ডুয়ার্সের নদীতে জলস্ফীতি, জলমগ্ন গয়েরকাটা

আরও পড়ুন: একটানা ভারী বর্ষণে বন্যা পাকিস্তানে, নিহত ২৮

সোমবার রাতের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশে কালো মেঘ থাকায় দুশ্চিন্তা দানা বাধছে।ধূপগুড়ি সহ ডুয়ার্সে বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। তবে ভুটান পাহাড়ে বৃষ্টি চলায় আশঙ্কা রয়েই গেছে।যার কারণে জল বাড়ছে সমস্ত নদী গুলিতে। গতকাল গভীর রাত থেকে জল ঢুকতে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামে। আংরাভাষা নদী ঘেঁষা বাড়িগুলি বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে গতকালের রাতের বৃষ্টির পরিমাণ খুব একটা বেশি ছিল না, তাদের অনুমান ভুটান পাহাড়ে অতিরিক্ত পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ায় সেই বৃষ্টির জল হাতি নালা হয়ে আংরাভাষা নদীতে এসে পড়েছে, যার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আংরাভাষা নদীতে খুব দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাহাড়ের বৃষ্টির জেরে ডুয়ার্সের নদীতে জলস্ফীতি, জলমগ্ন গয়েরকাটা

তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েতের এস সি এস টি, ওবিসি সেলের অঞ্চল সভাপতি সমর সরকার জানান,”  আংরাভাসা নদীর জলোচ্ছ্বাস এর কারনে মানুষ কে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরা দলের পক্ষ থেকে মানুষের পাশে দাড়াবার  চেষ্টা করছি। সেচ দপ্তর কে বাধ নির্মানের ব্যাপারে আগেও কয়েকবার জানিয়েছি, ফের এব্যাপারে জানাবো। ”

 

সকাল থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রয়েছেন বানারহাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সীমা চৌধুরী। তিনি এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী এক বছরের মধ্যে ওই এলাকায় নদীবাধ নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে ফের একবার ভুটান পাহাড়ে যদি মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় তবে পরিস্থিতি অনেকটা ভয়ানক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।