রিনা লায়লা, ইসলামপুর : বেশ কয়েক বছর ধরে লোকসানের মুখ দেখেছেন পাট (Jute) চাষিরা। কখনও উৎপাদন খরচ উঠত না, আবার কখনও বাজার দর ছিল তুলনামূলক কম। হেক্টর প্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসানের অভিজ্ঞতা রয়েছে অনেক চাষির। ফলে ধীরে ধীরে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে বহু চাষি ঝুঁকেছিলেন ভুট্টার মতো লাভজনক ফসলের দিকে।
আরও পড়ুন:
কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
খোলা বাজারে কুইন্টাল প্রতি পাটের দাম এখন ৭৫০০, ৮০০০ টাকার কাছাকাছি, যা গত বছরের তুলনায় যথেষ্টই বেশি। গত মরশুমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকায় উঠেছিল পাটের দাম। ফলে চাষিদের কপালে ফের আশার আলো দেখা দিয়েছে।আরও পড়ুন:
কৃষি দফতর সূত্রে খবর, চলতি মরসুমে ইসলামপুর মহকুমায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ইসলামপুর মহকুমা কৃষি অধিকারিক (প্রশাসন) মেহেফুজ আহমেদ বলেন, ‘এ বার বৃষ্টির কারণে পর্যাপ্ত জল পাওয়া গিয়েছে।
পাট পচাতে সমস্যা হবে না। গুণগত মান উন্নত হবে। চাহিদাও বাড়বে। ফলে চাষিরা ভাল দাম পাবেন।’আরও পড়ুন:
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ থেকে যদি পাট আমদানি বন্ধ থাকে, তবে উত্তর দিনাজপুরের চাষিদের জন্য এ মরশুম আরও লাভজনক হতে পারে।
তবে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, সব পাট এখনও বাজারে আসেনি। কয়েক সপ্তাহ পরে ব্যাপক হারে বাজারে পাট উঠতে শুরু করলে দাম কিছুটা কমতে পারে।আরও পড়ুন:
জুট কর্পোরেশনও স্বীকার করছে, এখন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের থেকেও গড়ে বেশি দাম পাচ্ছেন চাষিরা। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘ দিন ধরে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম না-পাওয়ার কারণেই জেলায় ধাপে ধাপে পাট চাষের জমি কমেছে। কিন্তু এ বছরের দাম চাষিদের আবার নতুন করে উৎসাহ দিচ্ছে। আগামী মরশুমে আরও বেশি জমিতে পাট চাষের ভাবনা ইতিমধ্যেই তৈরি হতে শুরু করেছে।