পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  নিজের ৪ বছরের শিশুসন্তানকে গোয়ার হোটেলে খুন করে ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে পালানোর সময় ধৃত মা। কর্নাটকের চিত্রদূর্গ থেকে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ৩৯ বছর বয়সী উচ্চশিক্ষিতা মহিলার নাম সূচনা শেঠ। সূচনা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো। ডেটা গবেষক হিসেবে তাঁর ১২ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সূচনা আর্টফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সি'র (এআই) ১০০ জন বুদ্ধিমতী মহিলার মধ্যে ছিল একজন।

সূচনা পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি টেক কনসালটেন্সি ‘দ্য মাইন্ডফুল এআই ল্যাব’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। স্টার্টআপ শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বার্কম্যান ক্লেইন সেন্টারে একজন ফেলো ছিলেন।একজন প্রভাবশালী মহিলা কিভাবে এই ধরনের কাণ্ড ঘটালেন তা নিয়ে হতবাক পুলিশ।নর্থ গোয়া পুলিশ সুপার নিধীন ভালসান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সূচনা শেঠকে গোয়ায় আনা হয়। মাপুসা শহরের একটি আদালত তাকে ৬ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
কি কারণে এই খুন তা এখনও স্পষ্ট নয়, পুলিশ খুনের পিছনে আসল কারণ জানার চেষ্টা করছে।

গোয়ার ক্যালাঙ্গুটের যে সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টে সূচনা তার সন্তানকে নিয়ে এসেছিলেন, সেখানে তোয়ালেতে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। পুলিশকে প্রথমে সূচনা জানান, ঋতুস্রাবের দাগ। পরে পুলিশি তদন্তে উঠে আসে নিজের কব্জি কেটেছিলেন সূচনা।

তাহলে কি ছেলেকে খুন করে নিজেকেও শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন সূচনা? পরে কোনও কারণে তিনি পিছিয়ে আসেন। গোটা বিষয়টিই তদন্তসাপেক্ষ্য।

পুলিশ সুপার নিধীন ভালসান আরও জানান, সূচনা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হলেও বিয়ের পর বেঙ্গালুরুতে থাকতেন। তার স্বামী কেরলের বাসিন্দা। শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে চিত্রদূর্গার পুলিশ আধিকারিক পরেশ নায়েক জানিয়েছেন।

সূচনা শেঠের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩০২ ধারায় খুন, ২০১ ধারায় প্রমাণ ধ্বংস এবং গোয়া শিশু আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে। তার স্বামী এই মুহূর্তে জাকার্তায় রয়েছেন। তাকে সঙ্গে গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে।