পারিজাত মোল্লা: কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে  মঙ্গলবার উঠে কালীঘাটের কাকু খ্যাত সুজয় ভদ্রের জামিন বিষয়ক মামলা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। সেখানে তাঁর (সুজয় ভদ্রের) হার্টে একবার স্টেন্ট বসানো হয়েছে। কিন্তু এরপরেও সম্প্রতি তাঁর হার্টে পাওয়া গিয়েছে একাধিক ব্লকেজ।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুজয়ের চিকিত্‍সকের দাবি, 'বাইপাস সার্জারি হতে পারে।প্রয়োজনে কলকাতার বাইরে চিকিত্‍সা করাতে হতে পারে।' এবার এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থা  ইডির বক্তব্য জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট এর সিঙ্গেল বেঞ্চ। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ইডির কাছে জানতে চান, -  'বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন হলে অসুবিধা কোথায়? আমরা  কোনও বিশেষজ্ঞ নই।

হাসপাতাল নিয়ে সবার নিজস্ব চয়েস থাকবে। তবে কেন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্‍সা করাতে চাইছেন বোঝা যাচ্ছে না।
'কালীঘাটের কাকুর  আইনজীবী ( একদা রাজ্যের এজি) কিশোর দত্ত সিঙ্গেল বেঞ্চ কে জানান, -' সুজয়ের হার্টে দুটি ব্লক আছে। এই বিষয়ে চিকিত্‍সার জন্য  আদালতের নির্দেশ আছে'।  এর প্রতুত্তরে ইডির আইনজীবী জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

ইডির আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি এদিন সওয়াল-জবাব পর্বে জানান , 'বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্‍সা হলে ১৬ দিন প্যারোলে থাকবে। তারপর এসএসকেমে চলে যাবে কোনও অজুহাত দিয়ে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সময়েও একই বক্তব্য ছিল। তিনি নাকি ভীষণ অসুস্থ ছিলেন।'

এরপরই কালীঘাটের কাকুর চিকিত্‍সার বিষয়ে ইডিকে তাঁদের  অবস্থান  আদালতে জানাতে বলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। জামিন না দিয়েই চিকিত্‍সা হলে অসুবিধা আছে কি না? ইডিকে এই বিষয়েও নিজেদের মত জানাতে হবে আদালতে। এই  মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে  বৃহস্পতিবার।

উল্লেখ্য,  শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চলতি বছরের  গত ৩০ মে 'কালীঘাটের কাকু' খ্যাত সুজয় ভদ্র কে  গ্রেফতার করে ইডি। আদালতে ইডির তরফে দাবি করা হয়, -' নিয়োগ দুর্নীতিতে মধ্যস্ততাকারীর  কাজ করেছিলেন সুজয়। কুন্তল ঘোষের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের যোগাযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি। এমনকী পার্থের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে সুজয় তাঁর কাছ থেকে দু'দফায় মোট ৮০ লক্ষ টাকা নিয়েছিল বলেও আদালতে দাবি করেছিল ইডি।প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি অবস্থাতেই স্ত্রী মারা যাওয়ার  খবর পান সুজয়। সেসময় তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল আদালত।

পরে স্ত্রী বিয়োগের পর পারলৌকিক ক্রিয়ার জন্য সুজয়কে প্যারোলে মুক্তি দিয়েছিল আদালত। গত ১৭ জুলাই প্যারোলের মেয়াদ শেষে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে ফেরার পর ওইদিনই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ভর্তি করানো হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। এখনও পর্যন্ত সেখানেই চিকিত্‍সাধীন রয়েছেন সুজয়। জামিন না-দিয়েই চিকিত্‍সা হলে অসুবিধা কোথায়?
তা  জানাবে ইডি। বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন হলে অসুবিধা কোথায়?  সেই প্রশ্নও জানতে চান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ।

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, -' তাঁরা কোনও বিশেষজ্ঞ নন । এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট দরকার। হাসপাতাল নিয়ে সবার নিজস্ব পছন্দ থাকবে। তবে কেন বেসরকারি হাসপাতাল যেতে চাইছেন তা বোঝা যাচ্ছে না ।"ইডির আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি বলেন, "বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্‍সা হলে ১৬  দিন প্যারোলে থাকবেন। তারপর কোনও অজুহাত দিয়ে এসএসকেমে চলে যাবেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সময়ে একই কথা শোনা গিয়েছিল। তিনি নাকি ভীষণ অসুস্থ ছিলেন। অজুহাত দিয়ে এসএসকেম হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন।" আগামী  বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ।