পুবের কলম প্রতিবেদক:  অবরুদ্ধ নগরী গাজায় ইসরাইল ফিলিস্তিনি নারী পুরুষ শিশুর উপর নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ইসরাইল সরকার ও সেনাবাহিনী নিজেরাই গাজার ২৩ লক্ষ বেসামরিক মানুষকে দক্ষিণের দক্ষিণের দিকে চলে গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে বলেছে। সেই মতো বেসামরিক মানুষজন অবরুদ্ধ নগরীর একমাত্র পথ মিশরের রাফা সীমান্তের দিকে ছুটে যাচ্ছে। কিন্তু বর্বরতা চূড়ান্ত করে ইসরাইলি বিমান বাহিনী নিরস্ত্র অসহায় মানুষদের ওপর শক্তিশালী বোমা বর্ষণ করছে। ইতিমধ্যেই পলায়নরত কয়েক শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরও অনেকে।

আর মানব ইতিহাসে বর্বরতার যে চরম উদাহরণ ইসরাইল রেখেছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গত দুদিন ধরে গাজার বেশ কিছু হাসপাতালে ইসরাইল বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণ।

এই হাসপাতাল গুলিতে রয়েছেন অসুস্থ ও আহত মানুষেরা। এই ইসরাইলি হামলার ফলে তারা অসহায়ভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন। রোগীদের সেবারত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য সহায়করাও মারা যাচ্ছেন, এবং আহত হচ্ছেন।

আর নৃশংস বর্বরতার নজিরবিহীন উদাহরণ রেখে ফিলিস্তিনের গাজা শহরের 'আল-আহলি আরব ' হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। গতকাল রাতে এই আক্রমণে কম করে ৫০০ জন রোগী ও চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা বলছেন।

কারণ বহু নারী-পুরুষ-শিশু এখনও ধবংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে রয়েছে। লাশ উদ্ধারেরও ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ কে উদ্ধার করবে? গাজায় অবস্থানকারী সবাই আহত, বিপন্ন, ক্ষুধার্ত, পিপাসার্ত। কংক্রিটের নীচে থেকে মুমূর্ষূদেরও উদ্ধারের কোনও পরিকাঠামো নেই।

আর এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যিনি ফিলিস্তিনের ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের প্রধান সমর্থক এবং সক্রিয় সাহায্যকারী, তিনি আজ বুধবার ইসরাইলে এসেছেন।

অনেকে বলছেন তাঁর মূল লক্ষ্য, ফিলিস্তিনিদের উপর এই বর্বর, পাশবিক হত্যাযজ্ঞের পর ইসরাইলের উপর যেন কোনও আক্রমণ না হয়, তা নিশ্চিত করা।

এদিকে আরব দেশগুলি জো বাইডেনের সঙ্গে জর্ডনে তাদের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তা বয়কট করেছে। এই বয়কটের দ্বারা আরব দেশগুলি বোঝাতে চাইছে, তারা ফিলিস্তিনের মানুষের উপর ইসরাইল ও আমেরিকার এই বর্বরতা ও নৃশংস নরসংহারকে সমর্থন করে না, বরং ঘৃণা করে। আর জো বাইডেনের এই ইসরাইল সফরকে তারা মনে করছে যে, নরঘাতক নেতানিয়াহু এবং তার বর্বরতার প্রতি সমর্থন এবং আরও সাহায্য দিতে তিনি ইসরাইলে তশরিফ এনেছেন। জো বাইডেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলি বর্বরতার প্রধান শরিক।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিনিও হাসপাতালে ইসরাইলি হামলার কঠোর নিন্দা করেছেন। আল আহলি হাসপাতালে হামলা প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদি বলেন, গাজার এই হাসপাতালে যে আক্রমণের দুঃখজনক ঘটনায় যারা হতা-হত হয়েছে, তাতে আমি বিমূঢ় হয়ে পড়েছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হতা-হতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন, এবং এই বিমান হামলায় যাঁরা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, যাঁরা এই ঘটনার জন্য দায়ী তাদের অবশ্যই বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।