আরও পড়ুন:
ওবাইদুল্লা লস্কর , ডায়মন্ড হারবার: জীবন্ত উমার হাতেই এখন রূপ পাচ্ছে মাতৃরূপী উমা আর কিছুদিন পরেই পৌঁছে যাবে মণ্ডপে মন্ডপে আর তাই এখন ডায়মন্ডহারবার কলাগাছিয়া পটুয়াপাড়ায় চরম ব্যস্ততা দুই বোনের। সমাজে যেখানে ধর্মের রক্তচক্ষু মহিলাদের একাধিক কর্মের বিষয়ে বিধি-নিষেধের আরোপ টানে ঠিক সেখানেই সমস্ত বাধাকে তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাতৃ প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন হেনা চিত্রকর। ডায়মন্ড হারবার কলাগাছিয়া পটুয়াপাড়ায় বাসিন্দা শিল্পী হেনা চিত্রকর অভাব অনটনের মধ্যে দিয়েই সারা বছর দিন কাটান। এক চিলতে ঘরেই কতই না অপরূপ মাতৃ প্রতিমার রূপ ফুটিয়ে তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন:

আর সেই কাজে বেশ কিছু বছর ধরে পাশে পেয়েছেন তার দুই মেয়ে শবরী চিত্রকর ও ছোট মেয়ে টগরি চিত্রকর কে।
দাদার থেকেই এই মাতৃ প্রতিমা করতে শেখা হেনা চিত্রকরের তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৫ বছর আর সেই মায়ের দেখানো পথ অবলম্বন করেই আজও তার দুই মেয়ে শবরী চিত্রকর ও টগরী চিত্রকর ঠাকুর তৈরি করে আসছেন।মনুসংহিতা’তে বলা হয়েছে, ‘‘যে দিন নারী প্রথম রজঃদর্শন হবে সে দিন থেকে তিন রাত্রি পর্যন্ত রমণী সবকিছু পরিত্যাগ করে ঘরের মধ্যে সর্বদা আবদ্ধ থাকবে। যাতে অন্য কেউ তাকে না দেখতে পায়। স্নান করবে না, অলংকার পরবে না। এক বস্ত্র পরিধান করবে। দীনাভাবে মুখ নিচু করে বসে থাকবে। কারও সঙ্গে কোনও কথা বলবে না। নিজের হাত, পা ও চোখ থাকবে স্থির। দিনের শেষে মাটির হাড়িতে তৈরি করা ভাত সে খাবে এবং ভূমিতে সাধারণ ভাবে শয্যা করে নিদ্রা যাবে।’’ এ ছাড়া ‘মনুসংহিতা’য় আছে— ‘‘রজস্বলা নারীতে যে পুরুষ সঙ্গত হয় তার বুদ্ধি, তেজ, বল, আয়ু ও চক্ষু ক্ষয় পায়। নারী হল নরকের দ্বার।আরও পড়ুন:

কিন্তু আসল কথা হল, এই নারী রজঃস্বলা হলেই সৃষ্টি রক্ষা পায়। ঋতুমতী নারীই তো সন্তানের ধারক ও বাহক। তাই ধর্মের এই রক্তচক্ষু নিতান্তই হাস্যকর। কাজের শুরুর প্রথমে পটুয়া শিল্পী শবরী চিত্রকরকেও এমন একাধিক বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল কিন্তু মায়ের দেখানো পথ কোনদিনই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাদের সামনে। আর তাই গত দু বছরের কভিডের লকডাউন কাটিয়ে এখন দিনরাত এক করে মাতৃ প্রতিমা গড়তে ব্যস্ত দুই চিত্রকর বোন ঠাকুরের মাটি লাগানো থেকে শুরু করে ঠাকুরের চক্ষুদান সমস্তটাই এখন করে দুই বোন শবরী ও টগরি।
আরও পড়ুন:

মা হেনা চিত্রকর বয়সের চাপে সেই ভাবে এখন ঠাকুর করতে না পারলেও আদর্শ দুই মেয়েকে তৈরি করেছেন তারাই আজ অপরূপ মাতৃ প্রতিমার রূপ ফুটিয়ে তুলছে। আর সমাজের সেই বিরূপ মানসিকতা সম্পন্ন মানুষদের কথায় তোয়াক্কা না করেই জীবন্ত উমার হাতেই এখন রূপ পাচ্ছে মাতৃরূপী উমা।