পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অবস্থিত কাতার এনার্জির গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ১২ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। আহত হয়েছেন বিভিন্ন দেশের অন্তত ৬৬ জন শ্রমিক, যাদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার ভারতের মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "কাতারে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের দেশের ১২ জনকে হারিয়েছি। রাস লাফানের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১২ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে কতজন ভারতীয় রয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তাঁদের সকলেই নিরাপদ এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহ ভারতে পাঠানোর বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক্স-এ পোস্ট করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাস লাফান শিল্পনগরীর বিস্ফোরণে ভারতীয় নাগরিকদের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত।আরও পড়ুন:
এর আগে সোমবার ভারতীয় দূতাবাস জানায়, রবিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ১২ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন। এক বিবৃতিতে কাতার এনার্জি জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ও পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৩ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কাতার, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, কেনিয়া, ঘানা, তানজানিয়া, নাইজেরিয়া এবং নেপালের নাগরিকরা আছেন।আরও পড়ুন:
কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ঘটনাটি একটি শিল্প দুর্ঘটনা এবং এর পেছনে কোনো অন্তর্ঘাত বা নাশকতার প্রমাণ মেলেনি।
সংস্থার দাবি, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে বন্ধ থাকা বারজান গ্যাস স্থাপনায় মাত্র দুই দিন আগে উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর কাতার এনার্জির জরুরি মোকাবিলা দল এবং কাতারের সিভিল ডিফেন্স দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে পরিস্থিতি সামাল দেয়। বর্তমানে এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। সংস্থাটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই দুর্ঘটনার ফলে তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র, রাস লাফান বন্দর, লজিস্টিক কার্যক্রম এবং রপ্তানি সক্ষমতার উপর কোনো প্রভাব পড়েনি।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, কাতারের মন্ত্রকের প্রাথমিক তদন্তে ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ফলে কোনো বিপজ্জনক গ্যাস বা রাসায়নিক নিঃসরণের ঘটনা ঘটেনি এবং জননিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নেই।