পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে ফেরি সার্ভিসের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার তামিলনাড়ুর নাগাপট্টিনাম এবং শ্রীলঙ্কার কাঙ্কেসান্তুরাইয়ের মধ্যে ফেরি পরিষেবার সূচনা করেন তিনি। এদিন দিল্লি থেকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে ফেরি পরিষেবা চালু করেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদি জানিয়েছেন, এই অংশীদারিত্বের সব থেকে বড় বিষয় হল পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগকে আরও বৃদ্ধি করা। দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে বৃদ্ধি করার ব্যাপারেও তাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমসিংঘে যখন ভারতে এসেছিলেন তাঁদের এই বিষয়ে আলোচনা হয়।

এই প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যাত্রীবাহী ফেরি পরিষেবার সূচনাকে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য একটি "সত্যিই বড় পদক্ষেপ" বলে উল্লেখ করেন।

মোদি বলেন, এই ফেরি পরিষেবা দুই দেশের মধ্যে আরও সংযোগ বাড়াবে, বাণিজ্যকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে। দেশগুলির মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনকে শক্তিশালী করবে।

কবি সুব্রামানিয়া ভারতীর সিন্ধু নাধিয়িন মিসাই-এর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, মহান কবি সুব্রামানিয়া ভারতী তাঁর সিন্ধু নাধিয়িন মিসাই গানে ভারত ও শ্রীলঙ্কা সংযোগকারী সেতুর কথা বলেছিলেন। এই ফেরি পরিষেবা সেই সমস্ত ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও দৃঢ় করে তুলবে।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কা গিয়েছিলাম।

সেই সময় দিল্লি ও কলম্বোর মধ্যে বিমান চালানো শুরু হয়েছিল। এরপর শ্রীলঙ্কা থেকে সরাসরি কুশীনগরে বিমান চালানো হয়েছে। ২০১৯ সালে জাফনা ও চেন্নাইয়ের মধ্যে বিমান চালু হয়। এবার নাগাপাট্টিনাম থেকে কঙ্কেসানথুরাই পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস চালুর ঘটনা দুদেশের সম্পর্কে একটা মাইলফলক। মোদি আরও বলেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্পর্ক শুধুমাত্র পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি আমাদের দেশ, মানুষ ও হৃদয়কে আরও কাছে নিয়ে আসে।
দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই ফেরি পরিষেবা সমন্বয়কারি বাণিজ্য, পর্যটন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও উন্নতি সহ কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ করে দেবে।

এদিনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সংযোগ, সহযোগিতা এবং যোগাযোগের মধ্য দিয়ে নিকটবর্তী দেশগুলির উপর নয়াদিল্লির একটি "উদার এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি"র পরিচয় দিয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, ভবিষ্যতে, আমরা গ্রিড সংযোগ, পাইপলাইন এবং অর্থনৈতিক করিডোর দেখছি। বিদেশ মন্ত্রী বলেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে যোগাযোগের জন্য এটি সত্যিই একটি বড় পদক্ষেপ। গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহের উদ্যোগে।

দ্রুত গতি সম্পন্ন এই ফেরি পরিষেবা ভারতের শিপিং কর্পোরেশন দ্বারা পরিচালিত হবে। এই ফেরিতে ১৫০ জন যাত্রী নেওয়ার ক্ষমতা আছে। তামিলনাড়ুর নাগাপট্টিনাম থেকে শ্রীলঙ্কার কাঙ্কেসান্তুরাইয়ের ১১০ কিলোমিটার পথ কমপক্ষে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে অতিক্রম করবে।