০৭ মার্চ ২০২৬, শনিবার, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৌদির তেল খনি লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের একটি তেল খনি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলার আগেই ড্রোনগুলো ধ্বংস করে দেয় বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার পর এই প্রথম সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালানো হলো। ড্রোনগুলো সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র শায়েবাহ খনি লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করে।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শায়েবাহ তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা মোট ৬টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইস লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলেও জানিয়েছে রিয়াদ। তবে সেটিও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে অভিযান শুরু করে। একই সময় ইসরাইলও ইরানে “অপারেশন রোয়ারিং লায়ন” নামে পৃথক সামরিক অভিযান চালায়।
এই হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

আজ থেকেই বেকার ভাতা ‘যুবসাথী’, ধরনা মঞ্চ থেকে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সৌদির তেল খনি লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা

আপডেট : ৭ মার্চ ২০২৬, শনিবার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের একটি তেল খনি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলার আগেই ড্রোনগুলো ধ্বংস করে দেয় বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার পর এই প্রথম সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালানো হলো। ড্রোনগুলো সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র শায়েবাহ খনি লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করে।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শায়েবাহ তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা মোট ৬টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইস লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলেও জানিয়েছে রিয়াদ। তবে সেটিও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে অভিযান শুরু করে। একই সময় ইসরাইলও ইরানে “অপারেশন রোয়ারিং লায়ন” নামে পৃথক সামরিক অভিযান চালায়।
এই হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।