০৭ মার্চ ২০২৬, শনিবার, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিক্ষোভকারীদের তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিল সরকার

 

ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিলো দেশটির সরকার। জাতীয় পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যারা ‘প্রতারিত হয়ে’ বা উত্তেজনার বশে আন্দোলনে জড়িয়েছেন, তারা আগামী তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে তুলনামূলক লঘু শাস্তি পাবেন।

সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রাদান জানান, ইরানি প্রশাসন তরুণ বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশকে সরাসরি শত্রু হিসেবে নয়, বরং বিভ্রান্তির শিকার হিসেবে দেখছে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিতেই এই সীমিত সময়ের জন্য নমনীয় অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সুযোগ তিন দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এদিকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে তিনি চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতামূলক নীতিকে দায়ী করেন।

পেজেশকিয়ানের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছে, আর সেই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি শক্তিগুলো দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সীমিত ‘ক্ষমা’র প্রস্তাব, অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তা হুঁশিয়ারির মাধ্যমে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে।

তিন দিনের সময়সীমা শেষ হলে নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর অভিযানে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

আজ থেকেই বেকার ভাতা ‘যুবসাথী’, ধরনা মঞ্চ থেকে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ইরানের বিক্ষোভকারীদের তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিল সরকার

আপডেট : ২০ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার

 

ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিলো দেশটির সরকার। জাতীয় পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যারা ‘প্রতারিত হয়ে’ বা উত্তেজনার বশে আন্দোলনে জড়িয়েছেন, তারা আগামী তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে তুলনামূলক লঘু শাস্তি পাবেন।

সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রাদান জানান, ইরানি প্রশাসন তরুণ বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশকে সরাসরি শত্রু হিসেবে নয়, বরং বিভ্রান্তির শিকার হিসেবে দেখছে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিতেই এই সীমিত সময়ের জন্য নমনীয় অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সুযোগ তিন দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এদিকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে তিনি চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতামূলক নীতিকে দায়ী করেন।

পেজেশকিয়ানের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছে, আর সেই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি শক্তিগুলো দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সীমিত ‘ক্ষমা’র প্রস্তাব, অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তা হুঁশিয়ারির মাধ্যমে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে।

তিন দিনের সময়সীমা শেষ হলে নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর অভিযানে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।