লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকার রিয়াক শহরের একটি বহুতল ভবনে হামলায় ১০ জনের বেশি নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে এখনো জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন। একই সময়ে দক্ষিণের সিদন শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত আইন আল-হিলওয়ে শরণার্থী শিবিরে পৃথক ড্রোন হামলায় আরও অন্তত দুইজন নিহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা বালবেক এলাকায় হিজবুল্লাহ–এর একটি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে সংগঠনটির একজন সামরিক নেতা থাকতে পারেন। অন্যদিকে শরণার্থী শিবিরে হামলার বিষয়ে ইসরায়েল দাবি করেছে, সেখানে হামাস–এর একটি কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হামাস এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষই হতাহত হয়েছেন এবং কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল না।
জাতিসংঘ–এর মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতির পর থেকে লেবাননে ১০ হাজারের বেশি হামলা চালানো হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শরণার্থী শিবিরে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি আগে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে তা মানবিক খাদ্য সহায়তা বিতরণের রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
ঘটনার পর লেবানন সরকার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ–এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল নিয়মিত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং দেশের কয়েকটি এলাকা এখনো দখলে রেখেছে, ফলে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বহু মানুষ ঘরে ফিরতে পারছেন না।




























