পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :
প্রাক্তন আইনমন্ত্রী কপিল সিবাল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপিকে জেতানোর জন্য দলটির সঙ্গে আঁতাত করে কাজ করার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার একজন “জাতীয় লজ্জা” এবং বিজেপির বিজয় নিশ্চিত করাই তাঁর “পেশা”।
পিটিআই জানিয়েছে, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই ধাপে অনুষ্ঠিতব্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের জন্য বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করায় নির্দল  রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন।
বাংলায় মানুষকে “ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত” করার জন্য যৌক্তিক অসঙ্গতির যুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সিবাল বলেন, “তারা মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় এটি ব্যবহার করেনি, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহার করছে।”
 এক সংবাদিক  সম্মেলনে সিবাল  বলেন,“তারা ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে যৌক্তিক অসামঞ্জস্যের যুক্তি ব্যবহার করছে, অর্থাৎ, ভোটার এবং তার বাবার বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হলে তার নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে, ৫০ বছরের বেশি ব্যবধান থাকলেও নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে… আর এই সবকিছুই করা হচ্ছে এআই-এর মাধ্যমে,” 
সিবাল বলেছেন, এই দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই হলেন “যৌক্তিক অসঙ্গতি”, এবং তিনি আরও যোগ করেন যে এই শীর্ষ নির্বাচনী কর্মকর্তা যা বলেন তার কিছুই “যৌক্তিক” নয়।তার এই অনিয়ম সারা পশ্চিমবঙ্গে স্পষ্ট। এটা লজ্জার যে আমাদের এমন একজন নির্বাচন কমিশনার আছেন। এটা একটা চরম জাতীয় লজ্জা। এটাও জাতীয় লজ্জা যে এ ব্যাপারে কেউ কিছু করছে না।

"
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে সিবাল  বলেন, যেভাবেই হোক পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যাতে নির্বাচনে জেতে, তা নিশ্চিত করাই হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের “পেশা”।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর একটি উক্তি স্বামী বিবেকানন্দের নামে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে যোগী আদিত্যনাথকে কটাক্ষ করে সিবাল  বলেন, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ইতিহাস ও সংবিধান সম্পর্কে কোন ধারণা নেই, কারণ তিনি শুধু বুলডোজার ও এই জাতীয় জিনিসপত্রই চেনেন।
দলগুলো নির্বাচনে লড়ে, সরকার নয়। কিন্তু এখানে সরকারই নির্বাচন লড়ছে। গুজরাত  থেকে প্রায় ৫,০০০ মানুষকে বিশেষ ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রাজ্যসভার ওই সাংসদ অভিযোগ করেন,“যারা বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন, তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়, অন্যদিকে বিজেপি কর্মীদের বাংলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়েছে।” 
সিবাল বলেন, রেল যদি বিজেপি কর্মীদের পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে যায়, তবে তা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।
সিবাল বলেন ,“এটা অবাক  করার মতো। মনে হচ্ছে, ভারতের সংবিধানের বাইরে পশ্চিমবঙ্গে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
এই জরুরি অবস্থায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২,৪০০ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে, যার অর্থ ২.৪ লক্ষ সিএপিএফ কর্মী, অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের জন্য একজন সিএপিএফ কর্মী।” 
সিবাল  বলেন, মনে হচ্ছে বিজেপি নয়, বরং সিএপিএফ এবং নির্বাচন কমিশনই এই নির্বাচন লড়ছে। তিনি এটিকে “রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের চরম অপব্যবহার”। 
প্রবীণ আইনজীবী প্রশ্ন করেন, “জম্মু ও কাশ্মীরে এত সংখ্যক সিএপিএফ সদস্য থাকবেন না। আর এই সবকিছু এমন সময়ে ঘটছে যখন মণিপুরে সহিংসতা চলছে। আমাদের দেশের কী হচ্ছে?” 
সিবাল অভিযোগ করেন,“সবাই চুপ, কোন প্রতিষ্ঠানই সাড়া দিচ্ছে না। আমরা কি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (জ্ঞানেশ কুমার)-এর কাছ থেকে সাড়া পাওয়ার আশা করতে পারি… তারাই তো বিজেপির হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন,” ।
আসন্ন নির্বাচনমুখী রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গে সিবাল  বলেন, তাঁরা যে ধরনের বক্তৃতা দিচ্ছেন তা অবিশ্বাস্য।

তিনি বলেন ,“আপনার বিরুদ্ধে একজন মহিলা (মমতা ব্যানার্জী) দাঁড়িয়ে আছেন এবং আপনি দেশের সমগ্র শক্তিকে নিয়োজিত করেছেন। এটি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ” 
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে দেশের সমগ্র সরকারি শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সিবাল বলেন,“সিইসি এই ক্ষমতাগুলো কোথা থেকে পান? ৪৮৩ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এই দেশে কারও অসীম ক্ষমতা নেই । ” 
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে শিবাল বলেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিজেপির সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজয়ী হবেন।
বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের এক লড়াইয়ে দুর্নীতি ও চাকরির মতো বিষয়গুলো ছাপিয়ে পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিতর্ক প্রাধান্য পেয়েছে।
দুই দফার নির্বাচনের প্রথম পর্বে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫২টি আসন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে – যার মধ্যে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার সবকটি ৫৪টি আসন এবং মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম ও হুগলির বেশ কয়েকটি আসন রয়েছে।
প্রথম পর্বেই নির্ধারিত হতে পারে যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার প্রধান পথ হিসেবে উত্তরবঙ্গের ওপর এখনও নির্ভর করতে পারবে কি না, অথবা তৃণমূল কংগ্রেস হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে কি না।
নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্ব ২৯এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।