দেবশ্রী মজুমদারঃ শেয়ারের ডেলি ট্রেডিং-এ দামের ওঠানামাকে বাজারের স্বল্পমেয়াদী দামের দ্রুত ওঠা-নামা বা ভোলাটিলিটি বলে। এবারে বীরভূমের নির্বাচনে অনেকটাই শেয়ার বাজারের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। যতই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থেকে তাবড় রাজনৈতিক দলের নেতা বলুন না কেন, জয় নিশ্চিত। মানুষ এখনই সব ঠিক করে নিয়েছে।  গত কয়েক দিনের দামের রেঞ্জ গড় দেখে শেয়ার ব্যবসায় যেমনটি এটিআর বা এভারেজ ট্রু রেঞ্জ ঠিক করা হয়। এক্ষেত্রেও তাই। 

মুরারই বিধান সভায় গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব যদি শাসক দল করতে পারেন, তবে পাল্লা ঘুরতে পারে। সেক্ষেত্রে অনুব্রত অনুগামী বাবলু ভকত সহ কাজল অনুগামী আলিখানদের একত্র হতে হবে। সম্প্রতি বীরভূম সাংসদ শতাব্দী রায় প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন এই মুরারইয়ে। তারপর মুরারইয়ে কাজল শেখ দলীয় বৈঠক করে দলের গদ্দারদের পাছায় লাথ মেরে বের করে দেওয়া নিদান দিয়ে যান। ঠিক তার পরে পরেই মুরারইয়ে গ্রামের কাছে আবদুল্লাপুর মোড়ে গোরসা অঞ্চলের উপপ্রধান ছটকি মন্ডল এবং তার স্বামী বীরেন কোনায় সহ বেশ কয়েকজন কংগ্রেসে যোগদান করেন। তৃণমূল বিধায়ক প্রয়াত আব্দুর রহমানের ছেলে সঞ্জীবুর রহমানের টিকিট পাওয়ার কথা ছিল এবার। দলীয় স্তরে এলাকায় প্রচার শুরু হয়েছিল। সেক্ষেত্রে সঞ্জীবুর রহমান, কাজল অনুগামী আলি খান এবং মোশারফ হোসেনের মধ্যে কে টিকিট পাবেন সেটা নিয়ে একটা টানা পড়েন ছিল।

মোশারফ হোসেন তৃণমূলের দলীয় প্রার্থী হওয়ার পরেই সঞ্জীবুর রহমান কংগ্রেস প্রার্থী টিকিট নিয়ে ভোটের ময়দানে নেমে পড়েন। এই তরুণ নেতা এবার ভোটে অঘটন ঘটালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। 

এখানেই মমতা বলেন, বিজেপির কাছে টাকা নিয়ে এখানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। মালদা মুর্শিদাবাদেও গদ্দারদের লড়তে পাঠানো হয়েছে। যারা কমিউনিটি কে বিক্রি করে, তাদের ক্ষমা করবেন না। যুদ্ধে ধর্ম ও জাতি বিক্রি করে বিজেপির হাতে তামাক খেয়ে অনেকে নিজের পকেটে টাকা ঢোকাচ্ছে। যুদ্ধে ধর্ম বা জাতিকে কখনো বিক্রি করা যায় না। এরা গদ্দার। মনে রাখবেন লাল মাটির দেশ আমার দেশ। "  মুরারইয়ে মিম প্রার্থী তাসির শেখ।   মুরারইয়ের বাসিন্দা তাসির শেখ বাম ও মিম জোটের প্রার্থী হিসেবে  দাঁড়িয়েছে। রামপুরহাটেও শাসকদল চাপে আছে। এই বিধান সভায় এস আই আরে কয়েক হাজার বাদ গেছে। 

এদিকে রামপুরহাটে দাঁড়িয়েছে মহম্মদবাজার ব্লকের দেউচার বাসিন্দা আনাস আহমেদ জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হিসেবে।

প্রখ্যাত ব্যবসায়ী টূলু মন্ডল এর ভাগ্নে এই আনাস আহমেদ। গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় কে এই মোহাম্মদ বাজার ব্লকের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পঞ্চায়েত  এলাকা থেকে লিড দিয়েছিল। এখান থেকেই আট হাজার ভোটের লিড পেয়ে তৃণমূল প্রার্থী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হন। এবার সেখানকার বাসিন্দা আনাস আহমেদ প্রার্থী হওয়ায় ভোট কাটাকাটির অংক অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। মুখ্যত: এই দুটি ঘটনাকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী মানুষের কাছে আবেদন রাখেন যাতে করে ধর্ম বা জাতি বিক্রি করে বিজেপির হাত শক্ত না করা হয়। মমতা বলেন, এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব আলাদা। এবার অস্তিত্বের লড়াই। শান্তির জন্য নির্বাচন। ২৬ শে বাংলা জিতে দিল্লিতে বিজেপিকে হারাতে হবে। অন্যদিকে, হাঁসনে শাসকদলের হেভিওয়েট প্রার্থী কাজল সেখের দিকে পাল্লা ভারি হলেও, আই এস এফ সিপিএম জোট প্রার্থী কামাল হাসান সমানে পাল্লা দিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় খুব পিছিয়ে নেই। কাজল সেখের হয়ে এলাকার তৃণমূল নেতা সুকুমার মুখোপাধ্যায় কতটা ভোট আনতে পারেন, সেটাই দেখার। 

ময়ুরেশ্বরে শাসক দলের প্রার্থী অভিজিৎ রায় যতটা গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব সামলাতে পারবেন, ততটা লাভ। নারায়ণ মণ্ডল সহ সবাইকে কাছে টেনে নিতে হবে দলে।

নাহলে বিজেপি প্রার্থী দুধ কুমার মণ্ডল ভালো ফল করতে পারেন। নলহাটিতে শাসকদল মোটের উপর ভালো পজিশনে আছেন। যেমনটি নানুর, লাভপুর ও বোলপুরে। সাঁইথিয়া বিধানসভার মধ্যে সিউড়ি ২ ব্লক আছে। সেখানে নুরুল ইসলাম সহ অন্যান্যদের মধ্যে মতভেদ না ঘুচলে বেগ দেবে তৃণমূল প্রার্থী নীলাবতী সাহাকে। সিউড়ীতে শাসকদলের মধ্যে সব দ্বন্দ্ব মিটে থাকলে ভালো। নইলে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়ের ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছেন বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী অনুপ সাহাকে বাঁচাতে পারবে না যদি তাঁর দলের কর্মীদের ক্ষোভ না কমে। অন্যদিকে, নরেশ চন্দ্র বাউড়ি কতটা  তার পুরানো মেশিনারি কাজে লাগাতে পারেন, সেটার উপর নির্ভর করছে সবকিছু। দুবরাজপুর এলাকার শাসকদের এক নেতা বলেন, দুবরাজপুরে আমরা এগিয়ে। তবে এবার মানুষ বিরক্ত। হিন্দু মুসলিম এই ফ্যাক্টর মনে হয় এবার কাজে দেবে না। সংখ্যালঘুরা নিজেদের ভালোটা বুঝে নেবেন। তবে এবার আগে থেকে কেউ কিছু বলতে পারবে না।।