ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ফের চরমে উঠেছে। সম্ভাব্য আলোচনার মাঝেই ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ‘হাত ট্রিগারেই আছে’ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’। পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কোনো চুক্তি না হলে সামরিক ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত।
আরও পড়ুন:
মেহের নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাগারি বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে এক বিবৃতিতে বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং সে দেশের আগ্রাসী ও সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের বারবার আমরা সতর্ক করছি— আমাদের হাত ট্রিগারেই রয়েছে।”
আরও পড়ুন:
তিনি আরও জানান, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলার দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং ইরানি বাহিনী ইতোমধ্যেই তাদের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে রেখেছে।
একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—উভয় দেশকেই ‘আগের চেয়েও কঠোর ও কঠিন’ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীও পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়কে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করেছে।
সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ আছে, সবকিছুই পর্যাপ্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন:
বুধবারই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান দুই পক্ষকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসাতে চেয়েছিল, যাতে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্ভব হয়। যদিও ট্রাম্প আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, ইরান এখনও দ্বিতীয় দফার বৈঠকে যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
আরও পড়ুন:
এরই মধ্যে ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াতে চান না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে— এমন আশঙ্কা বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।