কাশ্মীর উপত্যকায় সাংবাদিকদের তলব করা এবং জোর করে স্বাক্ষরিত হলফনামা আদায়ের অভিযোগে কাশ্মীর পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। এডিটর্স গিল্ড অব ইন্ডিয়া বুধবার এক বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে, এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। গিল্ডের ভাষায়, “ইচ্ছামতো তলব, পুলিশের জেরা এবং জবরদস্তির মাধ্যমে হলফনামা আদায়ের চেষ্টা, এসবই সাংবাদিকদের বৈধ পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও চাপের শামিল।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হুমকিমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণের সাম্প্রতিক উদাহরণ মাত্র। অতীতেও বহুবার সাংবাদিকদের তলব ও জেরার খবর এসেছে।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদক আশিক হুসেনকে শ্রীনগরের সাইবার পুলিশ স্টেশনে হাজির হতে মৌখিক তলব করে। পত্রিকাটি লিখিত তলব চেয়েছে। কারণ জানতে চাইলে নাকি তাঁকে বলা হয়, “হাজির হলে কারণ জানানো হবে।” একইভাবে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, সহকারী সম্পাদক বশরত মাসুদকে চার দিন ধরে আটক রেখে একটি বন্ডে স্বাক্ষর করাতে চাপ দেওয়া হয়, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। গিল্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত অনেক সাংবাদিককে নিয়মিত সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে শ্রীনগরের সাইবার ক্রাইম থানায় ডেকে জেরা করা হয়েছে এবং “শান্তি বিঘ্নিত করবে না”—এমন অস্পষ্ট শর্তে বন্ড বা হলফনামায় স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রে এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের কোনো জায়গা নেই—মিডিয়া গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ।