পারিজাত মোল্লাঃ সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এর এজলাসে উঠে তরুণী চিকিত্‍সক প্রজ্ঞাদীপা হালদারের রহস্যমৃত্যুর মামলা। এই মামলার তদন্তের গতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলো হাইকোর্ট। এদিন এই মামলার শুনানি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দেন, -' তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ডিআইজি ও ডিজিকে ব্যারাকপুর থানার ওই তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং কমিশনকে মঙ্গলবারের মধ্যে চার্জশিট পেশ করতে হবে আদালতে'।

পেশায় চিকিত্‍সক প্রজ্ঞাদীপা হালদারের রহস্যমৃত্যু ঘটে গত ২০ জুন । ঘটনার পর তাঁর লিভ ইন পার্টনারকে গ্রেফতার করে পুলিশ ।
এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে দ্বিতীয় মতামত চেয়েছিল । অভিযোগ, পুলিশ সময় মতো সেই রিপোর্ট এসএসকেএম হাসপাতালে জমা দেয়নি ।তাই পুলিশের ভূমিকায় সোমবার ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত । চিকিত্‍সক প্রজ্ঞাদীপা হালদারের রহস্যমৃত্যু নিয়ে ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট । এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিত্‍সকদের দিয়ে বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে দ্বিতীয় মতামত নিতে বলেছিল আদালত ।

সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় সোমবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ।
এদিন তিনি এই মামলায় ফের নির্দেশ দেন ।ক্ষুব্ধ বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, "পুলিশ আদালতের নির্দেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে না । কারণ, ১০.অগস্ট এই কোর্ট নির্দেশ দেয়, আত্মহত্যা বলা হলেও মৃতের দেহের ক্ষতগুলি নিয়ে এসএসকেএমের চিকিত্‍সকদের থেকে দ্বিতীয় মতামত জানাতে । অথচ ১৮ অগস্ট পুলিশ এসএসকেএমে এই নির্দেশের কথা জানায় ।

আদালতের মনে হচ্ছে, ধৃতকে জামিন পাওয়ার সুযোগ করে দিতে পুলিশের এই আচরণ ।''বিচারপতি এদিন আরও জানান, -' ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকেই এই মৃত্যুর তদন্ত করতে হবে ।
একই সঙ্গে তদন্তকারী আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করতে হবে । প্রয়োজনে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশ কমিশনারকে । রাজ্য পুলিশের ডিজিকে পাঠাতে হবে এই নির্দেশের কপি '। আগামী ১ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি । ওইদিন অভিযুক্ত চিকিত্‍সককে মামলায় যুক্ত করতে হবে ।এই মামলা নিয়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, "৫৯ দিন হয়ে গেল । তদন্তকারী অফিসার অপেক্ষা করছেন যাতে ৬০ দিন পেরিয়ে যায় । তাহলে ওই অভিযুক্তকে জেল থেকে বের করতে পারবেন ।"