পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বরাবরই রেউড়ি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিনি। অথচ মহারাষ্ট্র নির্বাচনে সেই রেউড়ি প্রথাকেই হাতিয়ার করেছিলেন। কথা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। বারবার যেই খয়রাতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি সেই রেউড়ির জেরেই মারাঠাভূমে বিরাট সাফল্য মিলল তাদের।

এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাজুটি জোট ২১৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন ১৪৫টি আসন। এদিন দুপুর গড়ানোর আগেই ম্যাজিক ফিগার পার করে জোট।
লোকসভা নির্বাচনের ছ’মাসের মধ্যেই মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে ভোটগণনা। মহারাষ্ট্রে মূল লড়াই বিজেপি-শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে)-এনসিপি (অজিত)-এর জোট ‘মহাজুটি’এবং কংগ্রেস-শিবসেনা (ইউবিটি)-এনসিপি (শরদ)-এর ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’র মধ্যে।
এই রাজ্যে মোট আসনের সংখ্যা ২৮৮। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ১৪৫।
তবে এই ভোটের পিছনে অলক্ষেই চওড়া হাসি দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ ঝাড়খণ্ড কিংবা মহারাষ্ট্রে দুই বিধানসভা ভোটে উভয় দলের সাফল্যের পিছনে রয়েছে মহিলা ভোট। বিশ্লেষকরা বলছেন, মহারাষ্ট্রে লড়কি বহিন যোজনার ফল পেয়েছে মহাজুটি।
  মহিলাদের হাতে নগদ টাকা দেওয়ার প্রকল্প প্রভাব ফেলেছে বিধানসভা নির্বাচনে। মহিলা ভোটারদের লম্বা লাইনের দেখাও মিলেছিল ভোটকেন্দ্রে। মহাবিকাশ আঘাড়ি প্রতিশ্রুতি দিলেও যেহেতু শিন্ডের সরকার ইতিমধ্যে টাকা দেওয়া শুরু করেছে, তাই তাঁকেই বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছে রাজ্যবাসী।

২০২৪ সালের একনাথ শিন্ডের সরকার লড়কি বহিন যোজনা শুরু করেন। এই প্রকল্পে ২১ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত মহিলাদের মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়া হয়। তবে এই নির্বাচনের পর সেই অনুদান বাড়িয়ে  ২১০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। অন্যদিকে  কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট মহাবিকাশ আঘাড়িও মহিলাদের আর্থিক সাহায্যে প্রতিশ্রুতি দেয়  ইশতেহারে। বলা হয়, ক্ষমতায় এলে মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে।