পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: যোগীরাজ্য মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষের কারবারের জন্য আগে থেকেই পরিচিত। তবে একজন শিক্ষিকা একরত্তি বাচ্চা পড়ুয়াকে মুসলিম হওয়ার জন্য তাকে লিঞ্চিং করতে  উৎসাহ দিচ্ছে অমুসলিম পড়ুয়াদের, এমন দৃশ্য আগে দেখা যায়নি।

সম্প্রতি সেই ভিডিয়ো দেখেছে গোটা বিশ্ব। ভারতে মুসলিম-বিদ্বেষ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার সাক্ষ্য দিচ্ছে এই ভিডিয়োটি। এবার সেই মুসলিম  পড়ুয়াটিকে থাপ্পড় লিঞ্চিংয়ের ঘটনায় পদক্ষেপ নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের কাছে জবাব তলব করে ইতিমধ্যে নোটিশ দিয়েছে কমিশন।

তৃপ্তা ত্যাগী নামের ওই শিক্ষিকা ও স্কুলটির ঘটনার ব্যাপারে সবিস্তার রিপোর্ট চেয়ে  পাঠিয়েছে যোগী সরকারের কাছে। এনএইচআরসি এ ব্যাপারে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে। একটি আট বছরের শিশুর ধর্ম পরিচয়ের কারণে এমন হেনস্থাকে ভালো চোখে দেখছে না তারা। যদিও গত এক দশকে এমন ঘটনা একদমই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশে।
ধর্ম পরিচিতি দেখে বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভেঙে দেওয়া, গণপ্রহার করতে করতে মেরে ফেলার ঘটনাগুলি যেন দৈনন্দিন জীবনের  অঙ্গ হয়ে উঠেছে এই ক’বছরে। পুলিশ, প্রশাসন, আদালত, মানবাধিকার কমিশন-কেউই ইনসাফ দিতে পারেনি ভুক্তভোগী, নির্যাতিতদের।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব ও ডিজিকে নোটিশ পাঠিয়ে এনএইচআরসি ৪ সপ্তাহের মধ্যে পড়ুয়া লিঞ্চিংয়ের ঘটনাটির রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও জানতে চেয়েছে কমিশন। মানবাধিকার কমিশন মুজফফরনগর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সমন জারি করেছে। ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে  তাকে উপস্থিত হতে হবে কমিশনের অফিসে।