পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে বিরোধী ঐক্য তৈরির পথ ক্রমশ প্রশস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ইতিমধ্যেই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক, উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব, কর্নাটকের জেডিএস সুপ্রিমো কুমারাস্বামী, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সোমবার নবান্নে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করে গেলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। সঙ্গে ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবও। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা স্পষ্ট করে দিলেন, ২৪-এর লোকসভা ভোটে বিজেপিকে ‘জিরো’ করতে হলে শক্তিশালী বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
আরও পড়ুন:
রবিবার সন্ধ্যায় খবর আসে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বৈঠক করবেন মমতা। প্রথমে জানা গিয়েছিল মঙ্গলবার তাঁদের সাক্ষাৎ হবে। পরে জানা যায়, সোমবারই নবান্নে আসছেন নীতীশ। বৈঠক সেরেই তিনি রওনা দেবেন লখনউ। সেখানে সমাজবাদী পার্টির নেতা মুলায়ম-পুত্র অখিলেশ যাদবের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
এদিন দেখা গেল শুধু নীতীশ একা নন, তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবও। যা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন দমদম বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নবান্নে আসেন তাঁরা। নবান্নের সামনে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তারপর তাঁরা সোজা চলে যান নবান্নেদর ১৪ তলায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে।আরও পড়ুন:
সেখানে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩৫ মিনিট বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে তিনজনই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে ওঠে বিরোধী জোটের প্রসঙ্গ। সেই প্রসঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মিডিয়ার দৌলতে বিজেপি নিজেকে হিরো করছে। তাদের জিরো করাই লক্ষ্য।
বিরোধীদের একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। বিজেপির কাজ শুধু ফেক ভিডিও বানিয়ে মিথ্যা প্রচার করা। বিজেপি ইতিহাস বদলে দিচ্ছে। দেশের জন্য কোনও কাজ করছে না।আরও পড়ুন:
তাই তাদের শূন্য করতে হবে। আর এই লক্ষ্য পূরণে সমস্ত বিরোধী দলকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। লোকসভা ভোটের আগে থেকেই তার প্রস্তুতি নিতে হবে। এই প্রসঙ্গে মমতার মুখে উঠে আসে জয়প্রকাশ নারায়ণের বিরোধী ঐক্যের লড়াইয়ের কথা। জয়প্রকাশের স্মৃতি উসকে দিয়ে নীতীশ-তেজস্বীকে তিনি বলেন, বিহারের মাটি থেকেই এবার মহাজোটের পথচলা শুরু হোক। বিহারে বিরোধীদের বৈঠক ডাকা হোক।
আরও পড়ুন:
সেখানে সবাই বসে লড়াইয়ের রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। তৃণমূল নেত্রীর কথায় সম্মতি দেন নীতীশ-তেজস্বীও। এরপরই তৃণমূল সুপ্রিমোর চ্যালেঞ্জ, ‘বিজেপি হিরো হয়ে গিয়েছে, জিরো করতে চাই।’ বিরোধী জোট হলে তার মুখ কে হবে? এই প্রশ্নের জবাবে মমতা সাফ জানিয়ে দেন, ‘নিজেদের মধ্যে এই নিয়ে কোনও ইগোর জায়গা নেই। আমরা সবাই এক।’ বাংলায় তৃণমূল সরকারের কাজের প্রশংসা করেন নীতীশ।
আরও পড়ুন:
তাঁর কথায়, ‘বাংলায় সবকিছু ভাল হয়েছে। উনি রাজ্যের স্বার্থে অনেক উন্নয়ন করেছেন।’ জানা গিয়েছে, নবান্নের বৈঠক সেরেই লখনউয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন নীতীশ। সেখানে অখিলেশের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। অর্থাৎ, বিরোধী জোটের সলতে পাকানো যে শুরু হয়ে গিয়েছে তা বলাবাহুল্য।