পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দীপাবলির সকালে ছত্তিশগড়ের বস্তার থেকে দেশের দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বব্যাঙ্কের একটি রিপোর্টকে হাতিয়ার করে তিনি জানান, গত ১২ বছরে দেশে ৫০ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার উপরে উঠে এসেছেন। একইসঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নাম না করে তাঁর বিখ্যাত ‘গরিবি হটাও’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, শুধু দারিদ্র দূরীকরণের স্লোগান দেওয়াই যথেষ্ট নয়, এর জন্য সরকারের সদিচ্ছা ও বাস্তবিক কাজের প্রয়োজন হয়।
এবারের দীপাবলি উৎসব মাওবাদীদের একসময়ের শক্ত ঘাঁটি ছত্তিশগড়ের বস্তারে জওয়ানদের সঙ্গে কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দাঁড়িয়ে মাও দমনে সরকারের সাফল্যের পাশাপাশি ‘আত্মনির্ভর’ ও ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্বব্যাঙ্কের ওই সমীক্ষায় ভারতের আর্থিক অবস্থা নিয়ে বেশ কিছু আশাপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে দেশে প্রায় ৪৯.৬ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার উপরে উঠে এসেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালে দেশে যেখানে ৫৭.৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে ছিলেন, ২০২৩ সালে তা কমে ১৬.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, এই ১২ বছরে দেশে অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও ২৭.১ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ২.৬ শতাংশ হয়েছে।
সার্বিকভাবে দেশের দারিদ্র কমার এই পরিসংখ্যান আশাপ্রদ হলেও, গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি ও ধনবৈষম্য নিয়ে এখনও বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য রয়েছে ওই রিপোর্টে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রামে এখনও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৯.৩ শতাংশ, যা শহরাঞ্চলের তুলনায় প্রায় ৮.৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া আয়ের বৈষম্যও প্রকট। দেশের নিচুতলার ১০ শতাংশ মানুষের তুলনায় উপরতলার ১০ শতাংশ মানুষের রোজগার এখনও প্রায় ১৩ গুণ বেশি বলে ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে।