পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) এবং কলেজ সার্ভিস কমিশনের (সিএসসি) ধাঁচেই এবার রাজ্যে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সার্ভিস কমিশন’ তৈরি করতে উদ্যোগী হল নবান্ন। এই নতুন কমিশনের কাঠামো ও নিয়মাবলি নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটিতে রয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেবব্রত মিত্র এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কল্লোল পাল-সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা। রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব পার্থ চক্রবর্তীকে এই কমিটির সদস্য-আহ্বায়ক করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই কমিশনের গঠন, কাজ করার পদ্ধতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া কীরকম হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে কমিটি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও মতামত নিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটিকে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ সম্বলিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিজেদের অনুমোদিত শূন্যপদগুলিতে নিজস্ব উদ্যোগেই শিক্ষক নিয়োগ করে থাকে। কিন্তু প্রস্তাবিত এই নতুন কমিশন কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা কতটুকু থাকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষামহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
শিক্ষকদের একাংশের আশঙ্কা, এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিজস্ব অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় বদলি বিল নিয়ে শিক্ষামহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তার মাঝেই এই নতুন কমিশনের উদ্যোগ ফের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে বিশেষজ্ঞ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই এই নতুন কমিশনের গঠনতন্ত্র ও ক্ষমতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।