৩০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন আজিজুল হক বিশ্বাস। ভোটের কাজও করছেন সমান তালে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে  প্রিসাইডিং অফিসারের  দায়িত্ব পড়েছে তাঁর কাঁধে। শুক্রবার ভোটের ট্রেনিংও নিয়েছিলেন। কিন্তু রাতে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট  প্রকাশের পরে দেখা যায়, আজিজুলের নাম বাদ। নদিয়ার  কৃষ্ণনগরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন আজিজুল।

আজিজুল হক বিশ্বাস কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক। ২০০২-এর ভোটার লিস্টে তাঁর নাম ছিল। তবে গত কয়েক বছর তিনি পদবি থেকে ‘বিশ্বাস’ বাদ দিয়েছেন। শুধু লেখেন, ‘আজিজুল হক’।সার  শুরুর পরে এতেই বিপত্তি বাঁধে বলে দাবি তাঁর।‘হক’ আর ‘বিশ্বাসের’ টানাপড়েনে শুনানিতে ডাক পড়ে আজিজুলের। তাঁর অভিযোগ, ‘নির্বাচন কমিশন নথি যাচাইয়ের জন্য ১৩টি প্রমাণপত্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আমি সব ক’টাই দেখিয়েছি। কিন্তু তার পরেও দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’
গত ৩০ বছর ধরে ভোটের কাজ করছেন। এ বারও প্রিসাইডিং অফিসারের ট্রেনিং নিয়েছেন। কিন্তু তালিকায় নাম না থাকায় সবই বৃথা হয়ে গেল দাবি করে আজিজুলের প্রশ্ন, ‘আমি নিজেই যদি ভোটার না হই, তা হলে বুথ সামলাব কী ভাবে?’ভোটার তালিকায় প্রিসাইডিং অফিসারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। কমিশন ও বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন কৃষ্ণনগর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সৌমাল্য ঘোষ।
তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত ভাবে করা হয়েছে। এ ভাবে অনেকেরই নাম বাদ দিয়েছে। আসলে সার -এর নামে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।’
একই ঘটনা ঘটেছে রানাঘাটের  প্রাক্তন  হাই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও। তিনি রানাঘাট ফকির মোহাম্মদ হাই মাদ্রাসায় ৩৪ বছর শিক্ষকতা করেছেন।নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন, তা  সত্বেও   তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০০২ সালে তার নাম ছিল ভোটার তালিকায় কাইউম বিশ্বাস, এখন তার সঠিক নাম মোঃ আব্দুল কাইউম বিশ্বাস। 
তবে বিজেপির দাবি উড়িয়ে দিয়ে নদিয়া উত্তরের বিজেপির মিডিয়া কনভেনর সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘গাইডলাইন মেনে নথিপত্র জমা দিলে এই রকম সমস্যায় পড়তে হতো না।’