নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই বড় পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী K. P. Sharma Oli-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন নেপালি কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Ramesh Lekhak।
নতুন প্রধানমন্ত্রী Balen Shah শপথ নেওয়ার একদিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

নেপালের পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে ভক্তপুর জেলার নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নতুন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গ্রেপ্তার কোনও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ। নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Sudan Gurung বলেন, “আইনের উপরে কেউ নন। আমরা সুবিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রক্রিয়াই শুরু হয়েছে।

গত বছর নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। সেই সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় একাধিক প্রাণহানি ঘটে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একটি তদন্ত কমিশন, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি Gauri Bahadur Karki, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ অনুযায়ী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তৎকালীন পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের কথা বলা হয়।
আইন অনুযায়ী দোষ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কাঠমান্ডু উপত্যকার পুলিশের মুখপাত্র Om Adhikari বলেন, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ওই বিক্ষোভের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।