পুবের কলম, কলকাতা: অবশেষে বড় স্বস্তি পেলেন শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তাঁর নামের পাশ থেকে সরে গেল ‘অ্যাজুডিকেশন’ বা ‘বিচারাধীন’ তকমা, ফলে আসন্ন নির্বাচনে লড়তে আর কোনও বাধা রইল না। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রাজ্যের বিদায়ী এই মন্ত্রীর নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এমনকি প্রথম দফার সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতেও তাঁর নাম না থাকায় প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি নিজেই—সব নথি জমা দেওয়ার পরও কেন তাঁর নাম ঝুলে থাকছে। কারণ, এই তকমা না কাটলে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লড়াই করাই কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠত।
শুক্রবার গভীর রাতে ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় সেই জট কেটে যায়। শুধু শশী পাঁজাই নন, বীরভূমের হাসন কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখের নাম থেকেও ‘বিচারাধীন’ তকমা সরেছে বলে জানা গেছে। তবে এখনও শাসকদলের একাধিক প্রার্থীর ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর, মালদার মোথাবাড়ি, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, লালগোলা ও নওদা, হুগলির চণ্ডীতলা এবং উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা কেন্দ্রের প্রার্থীদের নাম এখনও ‘বিচারাধীন’। একই সঙ্গে উত্তরপাড়া কেন্দ্রের প্রার্থী, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনি জট কাটানোর আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতির কাছে ই-মেল পাঠিয়েছেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কারণ, প্রথম দফার ভোটের জন্য মনোনয়ন জমার শেষ দিন ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ৯ এপ্রিল—তার আগে নিষ্পত্তি না হলে সমস্যায় পড়তে পারেন প্রার্থীরা।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের মধ্যে প্রথম দফায় প্রায় ১০ লক্ষের নিষ্পত্তি করে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় তালিকায় আরও প্রায় ১২ লক্ষ নাম যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ২২ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় আপলোড হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৪ শতাংশ নাম বাতিল হয়েছে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত মোট প্রায় ৩৭ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নথি যাচাই সম্পন্ন হয়েছে, যদিও কারা চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেলেন আর কারা বাদ গেলেন—তা পুরোপুরি স্পষ্ট হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।