ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রায় একমাস ধরে চলা এই যুদ্ধে গোটা অঞ্চল কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ‘বিশ্বের তৈলধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং একাধিক দেশের আকাশসীমা স্থগিত থাকার ফলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলিতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ যেমন আতঙ্কে, তেমনই উদ্বেগে রয়েছেন বিদেশি নাগরিকরাও।

এই প্রেক্ষিতে লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মালা রায়।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কত ভারতীয় এখনও আটকে রয়েছেন এবং কতজন দেশে ফিরতে পেরেছেন, সেই তথ্য জানতে চান তিনি।
তার জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং জানান, পশ্চিম এশিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস করেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে কর্মসূত্রে, আবার অনেকে স্থায়ীভাবে বিভিন্ন দেশে রয়েছেন—যেমন ইরান, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।

মন্ত্রী জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়ার পর নিরাপত্তার কারণে একাধিক দেশ আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় এবং বহু আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল হয়। ফলে দেশে ফেরার চেষ্টা করা ভারতীয়দের বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

তবে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলি সক্রিয় ভূমিকা নেয়। বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। এর আগে, ১ থেকে ৭ মার্চের মধ্যে প্রায় ৫২ হাজার ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
ক্রমশ সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় চার লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মাসের শেষে এই পরিসংখ্যান আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংসদে মালা রায়ের প্রশ্নের পরই এই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আনে কেন্দ্র, যা বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব ও সরকারের তৎপরতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।