প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়াকেও পিছনে ফেলে আবারও বিহারে ক্ষমতায় ফিরেছে এনডিএ। সেই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার দশমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার,যা এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। সকাল সাড়ে ১১টায় পাটনার ঐতিহ্যবাহী গান্ধী ময়দানে হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। বুধবার পাটনা বিধানসভার সেন্ট্রাল হলে সর্বসম্মতভাবে এনডিএ পরিষদীয় নেতা নির্বাচিত হন নীতীশ। পরে রাজভবনে গিয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং নতুন সরকার গঠনের দাবি জানান।

আজকের শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর পাশাপাশি ১৮–২০ জন বিধায়কও শপথ নেবেন বলে সূত্রের খবর।

শপথ মঞ্চ ঘিরে ইতিমধ্যেই সাজসাজ রব গান্ধী ময়দানে। নীতীশ নিজে সকালেই প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ও মুখ্যসচিব প্রত্যয় অমৃত। অনুষ্ঠানটি রাঙাতে হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শীর্ষ নেতৃত্ব।

এছাড়াও এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকবেন।

দিনের শুরুতেই বিজেপি ও জেডিইউ পৃথকভাবে পরিষদীয় নেতা নির্বাচন করে। জেডিইউ প্রত্যাশিতভাবেই নীতীশকেই বেছে নেয়। বিজেপি সম্রাট চৌধুরীকে পরিষদীয় নেতা ও বিজয় কুমার সিনহাকে সহকারী দলনেতা নির্বাচিত করেছে— অর্থাৎ আগের মতোই দু’জনই উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন।

ফল ঘোষণার পর মন্ত্রীপদ ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত শরিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়।

উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দাবি জানানো এলজেপি(রামবিলাস)-এর চিরাগ পাসোয়ান তা না পেলেও নীতীশের নেতৃত্বের প্রশংসা করে এনডিএকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। নীতীশের আগের সরকারে স্বরাষ্ট্র দপ্তর তাঁর নিজের হাতেই ছিল। এবার বৃহত্তর শরিক হিসেবে বিজেপি সেই দপ্তরে প্রতিমন্ত্রী পদ চাইছে। আগের মতোই বিধানসভার অধ্যক্ষ পদও বিজেপির হাতেই থাকবে। রাজনৈতিক মহলের অনুমান,এবার অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে নতুন রূপে মন্ত্রিসভা সাজাতে পারে এনডিএ।