পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা ভোটের  আবহে এবার নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপের মুখে নদিয়ার হাঁসখালি ব্লকের বিডিও । গত ২৭ মার্চ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শিবিরে এক শিক্ষকের কথিত  আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। শুধু সাসপেনশনই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ নদিয়ার হাঁসখালি ব্লকের অধীনে রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউশনে (গার্লস অ্যান্ড কো-এড) প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।

কমিশনের মতে,  সেই শিবিরের মাঝেই চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক  জখম হন। এই ঘটনায় রানাঘাট থানায় এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছিল।কমিশনের চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওই প্রশিক্ষণ শিবিরের দায়িত্বে ছিলেন হাঁসখালির বিডিও। কিন্তু তিনি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে চলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
কমিশনের মতে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিডিও-র পক্ষ থেকে চরম গাফিলতি ও গুরুত্বহীনতা লক্ষ করা গেছে। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে কমিশন  জানিয়েছে, সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে অবিলম্বে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করতে হবে। সেই সঙ্গে এই প্রশাসনিক গাফিলতির জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে নবান্নকে। বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করে তার রিপোর্ট কমিশনকে পাঠানোর চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

হাঁসখালির বিডিও ঘটনার সময় কিছু গোলমালের কথা বলেন , তবে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা  এই দাবি করেন। বিজেপি বিষয়টি ব্যাপকভাবে তুলে ধরেছে। যেখানে প্রথম ভোট কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত পায়রাডাঙ্গার সৈকত চ্যাটার্জী আরও কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন সম্পর্কিত একটি ভিডিও প্রদর্শনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। চ্যাটার্জী এই ভিডিও প্রদর্শনকে বাংলার আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি) লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন । বিডিও বলেন, “তিনি (চ্যাটার্জী) আমাদের কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছিলেন। তিনি লাফাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে কপালে আঘাত পান। "