নদিয়ার শান্তিপুর শহরের সাড়াগড় পাড়ায় ফের কবর থেকে লাশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবার চারটি কবর খুঁড়ে লাশ চুরি করে নিয়ে যায় দুষ্কুতীরা। সোমবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসীরা বিক্ষোভ দেখায় শান্তিপুর থানায়। এদিন সকালে এলাকাবাসীরা কবর উন্মুক্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে শান্তিপুর থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। কবরের পাশে ধূপ ধুনো দেওয়া দেখা যায়।
চারটি কবরের মধ্যে একটিও লাশ নেই। এরমধ্যে একজনের লাশ ছিল এক মহিলার। বাকি লাশগুলি পুরুষের। সম্প্রতি সউদি আরবের সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান এক যুবক। ওই যুবকের লাশ সাড়াগড় পাড়ার এই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। তার লাশ উধাও। চুরির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কবরস্থানে দাফনকৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা ছুটে যান। এসময় চুরি হওয়া লাশগুলোর স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের আগে থানায় একটি মিটিং হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় ইমামরা লাশ চুরির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়। ওই বৈঠকে শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ ও ভাইস চেয়ারম্যান কৌশিক প্রামানিক উপস্থিত ছিলেন। উভয়ে লাশ চুরির বিষয়ে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে ইমামদের ও থানা কর্তৃপক্ষকে জানান। তার মধ্যে অন্যতম , কবরস্থানের জঙ্গল পরিষ্কার করা, আলোর ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি লাগানো। এলাকাবাসীদের ক্ষোভ, দীর্ঘ সাত আট বছর ধরে চৈত্র মাসেই লাশ চুরির ঘটনা বেশি ঘটে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন আজ পর্যন্ত একজন দুষ্কৃতিকারীকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এই লাশ চুরি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরান গতবছর জেলা শাসক, কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার, পঞ্চায়েত সমিতির সকল সভাপতি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীর , মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস সহ জেলার বিধায়কদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীর অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। সেখানে একটি ভিডিও দেখানো হয়। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লাশ চুরির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। অথচ দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি বলে শান্তিপুর এলাকার ইমাম মাওলানা আব্দুল হাকিম ও সমাজসেবী ইনসান শেখ অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এই প্রথম নয়, এর আগে রাজাপুর, বাইগাছি পাড়া এবং বাগানে পাড়ার কবরস্থান থেকেও একাধিকবার লাশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবছর কবর থেকে লাশ তুলে মাথা কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে ।