পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভোটার তালিকায় সংশোধন শুরু হয়েছিল এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এবার সেই অনুসন্ধান পৌঁছতে চলেছে আধার ডেটাবেসেও। আধার পরিচালনাকারী সংস্থা ইউআইডিএআই ইতিমধ্যেই সেই দিকেই পদক্ষেপ শুরু করেছে। সূত্রের খবর, মৃত ভোটারদের তথ্য জানতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
উদ্দেশ্য একটাই, নির্বাচন কমিশনের তথ্যের সঙ্গে নিজেদের ডেটাবেস মিলিয়ে দেখা। যদি দেখা যায় কোনও মৃত ব্যক্তির নামে এখনও সক্রিয় রয়েছে আধার নম্বর, তাহলে সেই আধার নিষ্ক্রিয় করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এর মধ্যেই মৃত ব্যক্তিদের আধার নিষ্ক্রিয় করার কাজ জোরদার করেছে ইউআইডিএআই। ২০১১ থেকে ২০২৫ এই ১৪ বছরে যত আধার কার্ড বাতিল হয়েছিল, তার প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক আধার বাতিল হয়েছে গত মাত্র ছ’মাসে। দাবি করা হচ্ছে, গত ছয় মাসে প্রায় আড়াই কোটি আধার নম্বর বাতিল করেছে সংস্থাটি, যেগুলোর সবকটিই মৃত ব্যক্তিদের নামে ইস্যু করা ছিল। তবুও বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয় আধার কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি বাংলা-সহ ১২টি রাজ্যে বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া বা এসআইআর চালিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বেশিরভাগ রাজ্যেই ইতিমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক মৃত ভোটারের নাম সামনে এসেছে। এই তথ্য মাথায় রেখেই ইউআইডিএআই চাইছে, সেই মৃত ব্যক্তিদের নাম যেন আধারের তালিকায় সক্রিয় অবস্থায় থেকে না যায়। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ভোটারদের তথ্য চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি। তবে নির্বাচন কমিশন সেই তথ্য দেবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
মূলত মৃত ব্যক্তিদের আধার সক্রিয় থাকলে তার অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকেই এই উদ্যোগ। যদিও আধারকে সরাসরি নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ধরা হয় না, তবু বর্তমানে বহু সরকারি পরিষেবা পেতে আধার অপরিহার্য। পাশাপাশি আধারের ভিত্তিতে অন্যান্য নথি তৈরির পথও খোলা থাকে। ফলে মৃত ব্যক্তিদের নামে থাকা আধার নম্বর যদি সক্রিয় থাকে, তা ভুয়ো কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।