পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা প্রকাশকে ঘিরে দলীয় অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে বিজেপির। তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরও একাধিক জায়গায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ থামছে না। কোচবিহারের সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রেও প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় রাস্তায় নামলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ।
সিতাই কেন্দ্রের জন্য বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে আশুতোষ বর্মনের নাম। কিন্তু স্থানীয় কর্মীদের একাংশ এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, বাইরের কাউকে প্রার্থী না করে স্থানীয় কর্মীদের মধ্য থেকেই কাউকে মনোনয়ন দিতে হবে।

ক্ষুব্ধ কর্মীদের দাবি তুলেই প্রতিবাদে সরব হন বিজেপির কর্মী তপন কুমার বর্মন। তিনি বলেন, “কোনও গ্রেটারের প্রার্থী আমরা মেনে নেব না। দলের স্থানীয় কর্মীদের মধ্য থেকেই প্রার্থী বাছাই করতে হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, আশুতোষ বর্মা কোচবিহারের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা বংশীবদন বর্মনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

মঙ্গলবার সিতাই বিধানসভা এলাকার গোসানিমারি অঞ্চলে এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে দলীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে সংগঠনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু প্রার্থী নির্বাচনে অসন্তোষ প্রকাশ করে কর্মীদের একাংশ সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত বৈঠক বন্ধ করে দিতে হয় বলে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল। পাহাড় থেকে সমতল—বহু আসনেই ঘোষিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কর্মী-সমর্থকদের একাংশ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তৃতীয় দফার তালিকা প্রকাশের পরও সেই পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। মঙ্গলবার কোচবিহার জেলার দু’টি বিধানসভা আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করে বিজেপি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী হয়েছেন বংশীবদন বর্মনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নেতারা—গিরীরাজ শঙ্কর রায় এবং আশুতোষ বর্মা।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার দিনহাটা থানায় পরিদর্শনে যান জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি অঞ্জলি সিং। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ তিনি দিনহাটা থানায় পৌঁছন। তার আগে দিনহাটা মহকুমার সিতায়-এও তিনি পরিদর্শন করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

ডিআইজি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হবে তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।