পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও শুরু করা যাচ্ছে না ট্রাইব্যুনালের কাজ। বুধবার সর্বোচ্চ আদালতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ওই দিন প্রশিক্ষণ শেষ করে বৃহস্পতিবার থেকেই ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম শুরু হবে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বুধবার বিকেল পাঁচটায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠকই ভেস্তে যাওয়ায় আপাতত ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এর আগে ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও বিচারকদের নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। কোথায় বসে তারা কাজ করবেন, সেই জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঠিক হয়েছে, জোকায় অবস্থিত একটি সরকারি ভবন থেকেই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিচারাধীন তালিকায় থাকা কোনও ভোটারের নাম বাদ গেলে তিনি চাইলে এই ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারবেন। সেখানে তাঁর নথি যাচাই করে বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আবেদন জানানো যাবে অনলাইন এবং অফলাইন দুই পদ্ধতিতেই।
কিন্তু বুধবারের বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাইব্যুনাল চালু হওয়ার পরিকল্পনা কার্যত থমকে গেল। সূত্রের খবর, বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুললেও সেগুলোর সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
এর জেরে ট্রাইব্যুনালের কয়েকজন সদস্য স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শেষ পর্যন্ত বৈঠক মুলতুবি হয়ে যায়। নতুন করে কবে বৈঠক ডাকা হবে, তা নিয়েও কোনও ঘোষণা হয়নি। এমনকি ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রের দাবি।
বৈঠকে প্রাক্তন বিচারপতিরা জানতে চান—এই প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউর (এসওপি) কোথায়? প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো আদৌ প্রস্তুত কি না? যদি কোনও ভোটার অভিযোগ করেন যে তাঁর নথি বিএলও গ্রহণ করেননি, সেই পরিস্থিতিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
পাশাপাশি প্রতিটি ভোটারকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও তাঁরা তুলে ধরেন। কিন্তু অধিকাংশ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ।
এক অবসরপ্রাপ্ত মহিলা বিচারপতি বৈঠকেই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কমিশন যদি মৌলিক প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে না পারে, তাহলে ট্রাইব্যুনালে কাজ করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে সমর্থন জানান অন্য কয়েকজন বিচারপতিও। আর এক প্রাক্তন বিচারপতির মন্তব্য, কমিশন আদৌ সমস্যার সমাধান করতে চাইছে কি না, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই বৈঠক মুলতুবি হয়ে যায় এবং পরবর্তী বৈঠকের তারিখ এখনও জানানো হয়নি।