পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘খেলা হবে’ স্লোগান। সেই সময় জেলার পর জেলা ঘুরে সভামঞ্চে ফুটবল খেলতে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে। এমনকি প্রচারের মাঝেই তাঁর পায়ে চোট লাগার পরেও স্লোগান বদলায়নি বরং আরও জোরাল হয়ে উঠেছিল ‘ভাঙা পায়েই খেলা হবে’। ক্ষমতায় ফেরার পর গত পাঁচ বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘খেলা হবে’ নামেই একাধিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আর এবার সেই জনপ্রিয় স্লোগানকে নতুন মোড়কে ভোটের ময়দানে ব্যবহার করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রচারের নতুন হাতিয়ার হিসেবে সামনে আসছে সাপ-লুডোর বোর্ড।আরও পড়ুন:
দলের তরফে প্রকাশিত এই বিশেষ লুডো বোর্ডে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে ‘সিঁড়ি’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ, সেই প্রকল্পের সুবিধা পেলে সাধারণ মানুষ দ্রুত উপরে উঠছেন, এই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ‘সাপ’-এর মুখে রাখা হয়েছে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বিজেপির নেতাদের প্রতীকী উপস্থিতি। বোর্ডের গঠন সাধারণ লুডোর মতোই ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত ঘর।
তবে নিচের দিকের ঘরগুলোতে রয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘বাংলার বাড়ি’র মতো প্রকল্পের উল্লেখ, আর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে দেখা যাচ্ছে উপভোক্তাদের ছবি।আরও পড়ুন:
বোঝানো হয়েছে, সাপের মুখে পড়লে যেমন খেলায় পিছিয়ে যেতে হয়, তেমনই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার হলে মানুষের অগ্রগতিও থমকে যায়। বোর্ডের শেষ ঘর, অর্থাৎ ১০০ নম্বর ঘরটিকে ‘জয় বাংলা’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বিশেষভাবে। সেখানে পৌঁছনোর আগে পেরোতে হবে একটি ‘দু’মুখো সাপ’, যার একদিকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই অভিনব প্রচার কৌশলের মাধ্যমে বিজেপিকে আক্রমণাত্মকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, ভোটের আগে গ্রাম ও মফস্সল এলাকায় এই সাপ-লুডো বোর্ড বিলি করার পরিকল্পনাও রয়েছে দলের। কারণ এখনও বহু জায়গায় আড্ডা বা অবসরের অন্যতম মাধ্যম লুডো আর সেই পরিচিত খেলাকেই এবার ভোটের প্রচারের অংশ করতে চাইছে শাসকদল।