পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে মহিলাদের বিভাগে আর অংশগ্রহণ করতে পারবেন না ট্রান্সজেন্ডার মহিলা (যারা পুরুষ থেকে মহিলা হয়েছেন) এবং ডিএসডি অ্যাথলিটরা। লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এ ব্যাপারে আইওসির প্রেসিডেন্ট কার্স্টি কভেন্ট্রি জানান, জৈবিক পুরুষদের মহিলা বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা মোটেও ‘ন্যায়সংগত’ নয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অলিম্পিকের মহিলা বিভাগে অংশগ্রহণ করতে চাওয়া প্রতিটি অ্যাথলিটকে একবারের জন্য সেক্স ডিটারমাইনিং রিজিয়ন ওয়াই জিন (এসআরওয়াই) স্ক্রিনিং টেস্ট করাতে হবে। এটি মূলত একটি সাধারণ লালা বা মুখের কোষের পরীক্ষা।
যার মাধ্যমে অ্যাথলিটের প্রকৃত জৈবিক লিঙ্গ শনাক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে কভেন্ট্রি বলেন, ‘একজন প্রাক্তন অ্যাথলিট হিসেবে আমি অলিম্পিকে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার অধিকারে বিশ্বাস করি। এই নীতিটি সম্পূর্ণভাবে বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে তৈরি করা হচ্ছে।’আরও পড়ুন:
আইওসির তরফে জানানো হয়েছে, পুরুষ হিসেবে বয়ঃসন্ধিকাল পার করা অ্যাথলিটদের শারীরিক গঠন ও শক্তি মেয়ে অ্যাথলিটদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। দৌড় বা সাঁতারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যের হার ১০-১২ শতাংশ, কিন্তু নিক্ষেপ বা লাফানোর ক্ষেত্রে তা ২০ শতাংশের বেশি হতে পারে।
এমনকী লিফটিং বা পাঞ্চিং-এর ক্ষেত্রে এই পার্থক্যের হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই সামনের অলিম্পিকে মহিলাদের বিভাগে আর ট্রান্সজেন্ডার মহিলারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এর আগে ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে নিউজিল্যান্ডের ভারোত্তোলক লরেল হাবার্ড প্রথম ট্রান্সজেন্ডার মহিলা হিসেবে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। এ ছাড়া ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী বক্সার ইমানে খলিফের মতো ডিএসডি অ্যাথলেটদের নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। আইওসি মনে করে, অলিম্পিক আন্দোলনের মূল স্বার্থেই মহিলাদের বিভাগের স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা বজায় রাখা জরুরি।