পুবের কলম, লালবাগ: ভোটের আগে ফের বিতর্কে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। এবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক নবাব পরিবার। ছোটে নবাব মহম্মদ রেজা আলি মির্জা-সহ পরিবারের প্রায় ২৮৬ জন সদস্যের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।


 
নবাব পরিবারের দাবি, নির্বাচন কমিশনের তরফে শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর সমস্ত বৈধ নথি নিয়ে তাঁরা হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু শুনানির পরেও অধিকাংশ সদস্যের নাম স্থায়ীভাবে তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে তাঁরা এবার ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইতিহাস বলছে, মীরজাফর-এর বংশধর এই পরিবার একসময় বাংলা, বিহার ও ওড়িশার শাসনভার সামলাত।
পলাশীর যুদ্ধ-এর পর ব্রিটিশদের সহায়তায় মসনদে বসেন মীরজাফর। সেই ঐতিহ্যের উত্তরসূরিরাই আজ নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে লড়াই করছেন—এমনটাই আক্ষেপ পরিবারের সদস্যদের।
 
বর্তমানে নবাব পরিবারের সদস্যরা কিল্লা নিজামত চত্বরে বসবাস করেন। এই এলাকার একটি বুথে প্রায় ৮৫০ জন ভোটারের মধ্যে ২৮৬ জনের নাম বাদ পড়েছে, যাঁদের বেশিরভাগই নবাব পরিবারের সদস্য বলে জানা গিয়েছে।

 
মীরজাফরের ১৬তম বংশধর ও তৃণমূল কাউন্সিলর ফাহিম আলি মির্জা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমাদের নাম ছিল, আমরা ভোটও দিয়েছি। অথচ এবার হঠাৎ করে নাম বাদ গেল। হাজারদুয়ারি প্রাসাদ-সহ মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্য আমাদের পূর্বপুরুষদের সৃষ্টি, তবুও আমাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।” তিনি আরও জানান, তাঁর ৮২ বছর বয়সী বাবা অসুস্থ শরীরেও নির্বাচন কমিশনের সামনে হাজির হয়ে নথি জমা দিয়েছিলেন, তবুও সমস্যার সমাধান হয়নি।
 
অন্যদিকে ছোটে নবাব মহম্মদ রেজা আলি মির্জার আশঙ্কা, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেও শুনানি শেষ হতে সময় লাগবে। ফলে চলতি বছরের ভোটে পরিবারের কেউই অংশ নিতে পারবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্ন উঠছে—ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কি যথাযথ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে, নাকি সাধারণ মানুষ থেকে ঐতিহাসিক পরিবার—সবার মধ্যেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে?