পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ এসআইআরে রাজ্যে ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তারমধ্যে প্রথম দফার ভোটের আগে ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু, তালিকায় বাদ পড়া মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এবিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিতে পারে। এদিকে, ডিলিটেড ভোটারদের শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে হলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। এনিয়ে  এই অবস্থায় ট্রাইব্যুনাল শুরুর বিষয়ে আশার বার্তা শোনা যাচ্ছে।

জানা যাচ্ছে, বিচারবিভাগীয় স্তরে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে।

২৩ জেলার জন্য ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে ট্রাইব্যুনাল। জোকায় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রতিষ্ঠানে এই ট্রাইব্যুনাল বসবে।  তবে তার আগে আজ   রবিবার সেখানকার পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন বিচারপতিরা। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কাজ শুরু করতেও বেশি সমস্য লাগবে না। আর কয়েকদিনের মধ্যেই সেখানে কাজ শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।  আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোদমে সেখানে কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানা যাচ্ছে।

প্রতিটি বিচারপতির সঙ্গে চার থেকে পাঁচ জন করে কর্মী থাকবেন, যারা নথিপত্র যাচাই এবং প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করবেন। কীভাবে বিচারপতিদের এই কাজে সহায়তা করতে হবে, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।

এই ট্রাইবুনালে যোগ দিচ্ছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর। তিনি একসময় বম্বে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্বও সামলেছেন। তবে সূত্রের খবর, ট্রাইবুনালের জন্য মনোনীত কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। এদিকে, আবেদন নিষ্পত্তির পদ্ধতি কী হবে, তা নির্ধারণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এই কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটিই ট্রাইবুনালের কার্যপ্রণালী ও শুনানির নিয়মাবলি চূড়ান্ত করবে। সেই কাজ অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে বলে আইনজীবী মহল সূত্রের খবর। 

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের মধ্যে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা এই ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। আবেদন করার জন্য আবেদনকারীকে কলকাতায় এসে হাজিরা দিতে হবে না। নির্বাচন কমিশনের ECINet মোবাইল অ্যাপ বা কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরেও আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে।