ভারতীয় সঙ্গীতজগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রবিবার সকালে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

শনিবার সন্ধ্যায় আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়ালেও পরে পরিবারের তরফে জানানো হয়, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত ছিলেন এবং ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, শেষ পর্যন্ত একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত লোয়ার পারেলের বাসভবনে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো যাবে। বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।

আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, “মহান সঙ্গীতপ্রতিভা হিসেবে আশা ভোঁসলে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন।” বাংলার সঙ্গীতেও তাঁর অবদান স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা গানেও তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন এবং ২০১৮ সালে তাঁকে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।
অসুস্থতার সময় তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-ও। তাঁর প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।


দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে অসংখ্য ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়েছেন আশা ভোঁসলে। চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জগতে তাঁর অবদান অনন্য। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মভূষণসহ বহু সম্মানে ভূষিত এই শিল্পী আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’, ‘তুমসে মিলকে’—এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গানে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর কণ্ঠ আজও কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমলিন।