আবুল খায়ের: ভোট বাংলায় সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হল, ভোটের কাজে সিভিক পুলিশ, গ্রিন পুলিশ বা স্টুডেন্ট পুলিশকে কোনওভাবেই মোতায়েন করা যাবে না। এমনকী, ভোটের তিন দিন আগে ও পরের দিন ইউনিফর্ম পরে কোনও ধরনের ডিউটিও করতে পারবেন না সিভিক ভলান্টিয়াররা।
আরও পড়ুন:
এবারের ভোটে শুরু থেকেই সিভিকদের প্রতি বিশেষ নজর রয়েছে কমিশনের। সেই কারণেই বিভিন্ন থানায় গিয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষকরা খোঁজ নিচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট থানায় কতজন সিভিক রয়েছেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার জায়গায় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যে পুলিশ অ্যারেঞ্জমেন্ট থাকছে, তার মধ্যে কোনো সিভিক আছেন কি না খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন তাঁরা।
কোনো কোনো জায়গায় পুলিশ পর্যবেক্ষকরা আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে যুক্ত পুলিশ কর্মীদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যন্ত চাইছেন। তা দেখে তাঁরা বুঝতে চাইছেন, খাতায়-কলমে না-থাকলেও বাস্তবে কোনো সিভিককে দিয়ে এই কাজ করানো হচ্ছে কি না।আরও পড়ুন:
একইসঙ্গে থানার ওসি বা আইসিদের পুলিশ পর্যবেক্ষকরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সিভিক বা ভিলেজ পুলিশকে যেন কোনোভাবেই ভোট প্রক্রিয়ায় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে কাজে লাগানো না-হয়। কোনোভাবে তা নজরে এলে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। হুঁশিয়ার করেছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা।
আরও পড়ুন:
রাজ্যে এখন সিভিক ভলান্টিয়ারের সংখ্যা কয়েক হাজার।
জেলা ও মফঃস্বলে তো বটেই, খাস কলকাতায়ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তাঁরা।সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে সিভিক ভলান্টিয়ারদের অ্যাড-হক বোনাস বাড়িয়েছে রাজ্য। কত? ৬০০ টাকা। সিভিক ভলান্টিয়ারদের অ্যাড-হক বোনাস ছিল ৬,৮০০ টাকা। এবার ৬০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭,৪০০ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ, স্রেফ কলকাতা পুলিশ নয়, রাজ্য পুলিশে কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়াররা বর্ধিত বোনাস পাবেন।আরও পড়ুন:
এর আগে, সুপ্রিম কোর্টে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা বেশ কয়েকবার প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষ করে আরজি কর মামলায়। পাশাপাশি সিভিক ও ভিলেজ পুলিশ নিয়ে হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে তাঁদের পাঠানো যাবে না। তদন্তের কাজেও তাঁদের নিয়ে যেতে পারবেন না অফিসাররা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাঁরা সহকারীর কাজই করবেন। তবে নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকায় পুলিশ মহলের একাংশের প্রশ্ন, জেলা পুলিশের ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি সিভিকের উপর নির্ভরশীল। সেক্ষেত্রে এইসময় ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি লন্ডভন্ড হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।