আসন্ন বিধান ভোটকে সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ ভোটই প্রধান লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের। সেই উদ্দেশ্যে ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল । শুক্রবার তিনি বীরভূমের দুবরাজপুরের যশপুর গ্রামে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
আরও পড়ুন:
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন— নির্ভয়ে ভোট দিতে বুথে যান।
ভোটকে বাঙালির সেরা উৎসব দূর্গা পূজার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “আপনারা যেমন ঘুরে ঘুরে দুর্গাপুজো দেখেন, তেমনই নির্ভয়ে বুথে গিয়ে ভোট দেবেন।” পাশাপাশি আশ্বাস দেন, কোথাও কোনো সমস্যা হলে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।এদিন প্রথমে জেলাশাসক ধবল জৈন এবং পুলিশ সুপার সূর্যপ্রসাদ যাদব-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর সিউড়ির সার্কিট হাউসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে রামপুরহাটেও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বাংলার ভোটে অতীতে অশান্তির ঘটনা একেবারে নতুন নয়। বোমাবাজি থেকে খুন— নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছে একাধিক এলাকা। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও মালদহে একাধিক অশান্তির ঘটনা সামনে আসে।আরও পড়ুন:
তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল এবং বড় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সেই ধারা বজায় রাখতেই এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের কাজে যুক্ত সমস্ত আধিকারিককে শুধুমাত্র কমিশনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাশাপাশি প্রত্যেক পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথাও হিংসার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।