পুবের কলম, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম না ওঠা ঘিরে চরম আতঙ্কের জেরে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা জুটে যাওয়ার ভয়েই আত্মঘাতী হয়েছেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা খেপা হাজরা (৩৫)।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ভোটার তালিকায় নিজের নাম না থাকা নিয়ে মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরবর্তীতে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ওঠে। শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার পরও সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
মৃতের স্ত্রী বৃন্দা হাজরার কথায়, “আমার স্বামী দিনমজুরের কাজ করত। ভোটার তালিকায় নাম না ওঠার পর থেকেই ভয়ে ভুগছিল। ঠিকমতো খেত না, কারও সঙ্গে কথাও বলত না। শেষ পর্যন্ত এই পথ বেছে নিল। আমরা এখন কী করব বুঝতে পারছি না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন, “বারবার ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দ ব্যবহার করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও মানুষকে আতঙ্কে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলেই এই মৃত্যু।”
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, “দেশের অন্য রাজ্যেও এই প্রক্রিয়া হয়েছে, কিন্তু এমন ঘটনা ঘটেনি। এখানে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আমরা সকলকে আশ্বস্ত করছি, বৈধ ভোটারদের নাম অবশ্যই তালিকায় উঠবে।”