পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ এবার বদলি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে(সিইও)। বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার দিনই মধ্যরাতে নজিরবিহীনভাবে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর রাজ্য পুলিশের ডিজি-র পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার-সহ পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ব্যাপক রদবদল শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এর পাশাপাশি একলপ্তে, সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এগারো জেলার জেলাশাসক ও কলকাতার দুই ডিইও-কে। প্রশাসনের একাধিকস্তরে নির্বিচার বদলির বিরুদ্ধে সরব হন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সেই ধারাবাহিকতায় এবার রাজ্যের চার আধিকারিককে সিইও দফতর  থেকে সরিয়ে নিল নবান্ন। 

বদলি হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন একজন ডেপুটি সিইও।

এদিকে, স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ দফতরের এক আধিকারিককে সিইও দফতরের যুগ্ম মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক করে পাঠানো হল। সোমবার এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, রদবদলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন খোদ সিইও মনোজ আগরওয়ালই।  বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ১৯৯৮ ব্যাচের ডব্লিউবিসিএস অফিসার নরেন্দ্রনাথ দত্তকে শ্রম দফতরের অতিরিক্ত সচিব করে পাঠানো হয়েছে। ২০০০ ব্যাচের সুপ্রিয় দাসকে খাদ্য এবং প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব করে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা দু’জনেই সিইও দফতরে অতিরিক্ত সচিব পদে ছিলেন। ২০০৪ ব্যাচের মিঠু দত্তকে সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের যুগ্ম সচিব করে পাঠানো হল।
তিনি রাজ্যের সিইও দফতরের যুগ্ম সচিব ছিলেন। ২০০৫ সালের ডব্লিউবিসিএস অফিসার সুব্রত পালকে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ দফতরের সিনিয়র ডেপুটি সচিব করে পাঠানো হয়েছে। তিনি ডেপুটি সিইও ছিলেন। অন্য দিকে, ২০০১ ব্যাচের রাহুল নাথ ছিলেন স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ দফতরের অতিরিক্ত সচিব। তাঁকে যুগ্ম সিইও করে পাঠানো হয়েছে।২০১৮ থেকে সিইও দফতরে কর্মরত ছিলেন সুব্রত পাল। তবে কী কারণে এই বদলি তা জানা যায় নি।
 

এছাড়া সোমবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদও। কারণ একদিনের মধ্যে রাজ্যের বিডিও এবং নানা থানা ওসি,সহ ২৬৭ জন অফিসারকে অপসারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম,সহ রাজ্যের ১৭০ থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮৪ জন পুলিশ অফিসারকে অপসারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে ৮৩টি ব্লকের বিডিও এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে। তালিকায় আছেন নন্দীগ্রামের দুই ব্লকের বিডিও।