মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি তেল এবং দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন:
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য এখন ইরানের তেলের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনে খারগ দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
নিজের কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার দেশ Venezuela–র উদাহরণ টেনে আনেন, যেখানে চলতি বছরের শুরুতে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই এখন তার কাছে “সবচেয়ে পছন্দের কাজ”। এই পরিকল্পনার সমালোচনাকারীদের তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করে ‘বোকা’ বলেও উল্লেখ করেন। খারগ দ্বীপের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, সেখানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল এবং মার্কিন বাহিনী সহজেই নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে।
এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল আকাশপথে হামলা নয়, বরং ইরানের অর্থনীতির মূল ভিত্তি—তেল রপ্তানি—সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কৌশল বিবেচনা করছে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে Caracas–এ সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro–কে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। এরপর থেকেই দেশটির তেল খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই খারগ দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে তেহরান কার্যত অর্থনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খাবে। তবে এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই ‘তেল দখল’ নীতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর আগে তিনি ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পদক্ষেপের কথা বললেও, এবার সরাসরি সম্পদ নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আরও পড়ুন:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের হাতে একাধিক সামরিক ও অর্থনৈতিক বিকল্প রয়েছে। তবে খারগ দ্বীপের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত এলাকায় স্থল অভিযান চালানো বা দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বজায় রাখা কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়ে সমর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এখনও তীব্র বিতর্ক চলছে।